চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের শংকরচন্দ্র এলাকায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকের আগেই দুই পক্ষের সংঘর্ষে আলিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিনেও সেই টাকা পরিশোধ না করায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শুক্রবার রাতে নতুন করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ সময় জিয়াউর রহমান, তাঁর চাচা আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। পরে লিয়াকত আলী, তাঁর ছেলে আল-আমিন এবং আরিফের ছেলে আরাফাতসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের মারধরে আলিম উদ্দিন গুরুতর আহত হন। তাঁকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাসিম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আলিম উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা লিয়াকত আলীকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।