Skip to main content

Ridge Bangla

পররাষ্ট্র বাজেট কমালে দূতাবাস বন্ধ করতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বাজেট কমানো হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বন্ধ করতে হবে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, এতে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য কনস্যুলার সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে এবং জাতিসংঘের চাঁদা পরিশোধ করাও সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত ১৬ নম্বর মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের সদস্যরা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাব অনুযায়ী বরাদ্দ ১ টাকায় নামিয়ে আনা হলে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে জাতিসংঘের চাঁদা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংস্থাটিতে বাংলাদেশের সদস্যপদও স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, আগামী অর্থবছরের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বাজেট ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২৩৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ ৪ দশমিক ৫৩৬ শতাংশ বেশি।

খলিলুর রহমান বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের বড় অংশ বিদেশে বাংলাদেশের মিশন পরিচালনায় ব্যয় হয়। টাকার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু, যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট, আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে নতুন ৪টি মিশন চালুর জন্য আগামী অর্থবছরে ৩০ কোটি ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার পক্ষে গাম্বিয়ার করা মামলা পরিচালনার জন্য ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের ৪টি ইউনিট ও বিদ্যমান ৮৩টি বিদেশি মিশনের পরিচালন ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত ২১ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় দূরদর্শী ও সক্রিয় কূটনীতিই দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। তাঁর ভাষায়, সরকারের কূটনীতির মূলনীতি হচ্ছে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ফার্স্ট।’

This post was viewed: 21

আরো পড়ুন