Ridge Bangla

নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে গ্রেপ্তার হবেন না: ট্রাম্প

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাঁকে কোনো অবস্থাতেই গ্রেপ্তার করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের কথা বলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই, কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’ যদিও তিনি পোস্টে জোহরান মামদানির নাম উল্লেখ করেননি, তবে ইরান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনেরও প্রশংসা করেন।

এর আগে ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধ চলাকালে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল আদালতটির এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।

শনিবার সম্প্রচারিত নিউইয়র্ক টাইমসের ভিডিও পডকাস্ট ‘দ্য ইন্টারভিউ’-এ জোহরান মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগ বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে, আইন অনুযায়ী কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ এনেছে।’

প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহু সাধারণত নিউইয়র্ক সফর করেন।

মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রোববার এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বা পক্ষপাতদুষ্ট আদালত বলে উল্লেখ করে। একই পোস্টে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দেওয়া হয়। এতে আরও বলা হয়, ‘মামদানি মনে হচ্ছে নিজের ভুলভ্রান্তি থেকে জনসাধারণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে এবং ইহুদি রাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশের নেতার ওপর আক্রমণ করতে আগ্রহী।’

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আদালতের সদস্য নয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া জোহরান মামদানি মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময় বলেছিলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে এলে তিনি পুলিশকে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন।

অন্যদিকে, গত নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কিছুদিন পর তৎকালীন মেয়র-নির্বাচিত মামদানি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে মিলিত হন। এর আগে তাঁরা একে অপরকে নিয়ে কটূক্তি করলেও ওই বৈঠকের পরিবেশ ছিল অপ্রত্যাশিতভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ।

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন