Skip to main content

Ridge Bangla

নিট আন্দোলনে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে আবেদন খারিজ, ভিডিও দেখতেও রাজি নন ভারতের প্রধান বিচারপতি

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভে পুলিশের কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে করা এক আবেদন গ্রহণ করেনি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শুনানিতে আদালত জানিয়ে দেয়, পুলিশের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তারা কোনো পদক্ষেপ নেবে না।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এক আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনে পুলিশ কঠোর দমনপীড়ন চালাচ্ছে। তার অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসও ব্যবহার করা হয়েছে।

জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, ‘আমাদের আর আপনাদের কারো সময় নষ্ট করবেন না। আমাদের চেয়ে আপনাদের সময়ের দাম বেশি।”

আইনজীবী তখন আদালতকে জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরছেন। তার ভাষ্য, তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নিট পরীক্ষা, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) সংস্কার বা বিলুপ্তি এবং প্রশ্নফাঁসের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।

বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনা। বেঞ্চ যখন বিষয়টি নিয়ে আর শুনতে আগ্রহ দেখায়নি, তখন ওই আইনজীবী বিক্ষোভের ভিডিওচিত্র দেখানোর অনুমতি চান।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভিডিও দেখতে আমরা আগ্রহী নই। ওসব দেখার সময় আমাদের নেই।’

এর আগে চলতি বছর বেকার তরুণদের একটি অংশকে ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। সেই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে। বর্তমানে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে তারা।

দেশজুড়ে নিট প্রশ্নফাঁস এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে যখন আন্দোলন চলছে, তখনই সুপ্রিম কোর্টে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আবেদনটি করা হয়।

এর আগের দিন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায়ও একই ঘটনায় জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করেছিলেন। দ্রুত শুনানির আবেদন নাকচ করে তিনি বলেছিলেন, ‘এর মধ্যে আদালতকে টানবেন না।’

গত ১৫ মে এক রিট আবেদনের শুনানির সময় ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণদের একাংশকে ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করেন। ওই বক্তব্যের পর দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং পরে অনলাইনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের সূচনা হয়। বর্তমানে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে এই সংগঠন।

এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সমাজকর্মী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও যুক্ত হয়েছেন।

সোমবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হলে দিল্লি পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এতে বহু বিক্ষোভকারী আহত হন এবং অনেককে আটক করা হয়।

পরে নয়াদিল্লি জেলায় ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশি অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মঙ্গলবার সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা করতে দেওয়া হয়নি। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে।

বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী পুলিশি অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগও দাবি করেছেন তিনি।

This post was viewed: 10

আরো পড়ুন