Skip to main content

Ridge Bangla

নতুন পাঠ্যবইয়ে বিকৃতিহীন ইতিহাস তুলে ধরা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নতুন পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং কোনো ধরনের ইতিহাস বিকৃতি বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আনন্দময়, জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক করতে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সারা দেশে একযোগে ৩১ কোটি গুণগত ও মানসম্পন্ন নতুন পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি জানান, আনন্দময় শিক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির নতুন পাঠ্যবই প্রণয়নের কাজ চলছে। কারিগরি শিক্ষা ও জীবনমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বইগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে।

পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, নতুন বইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরা হবে। কোনো ইতিহাস বিকৃত করা চলবে না। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। শিক্ষার্থীদের সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস জানার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু পরীক্ষা নির্ভর না রেখে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, মানবিক ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাঠ্যক্রমে কারিগরি শিক্ষা, জীবনমুখী শিক্ষা এবং মূল্যবোধভিত্তিক বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চায় অংশ নেয়, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা। তিনি জানান, নতুন সিলেবাসে খেলাধুলা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি উপজেলায় নিজস্ব ক্রীড়া দল গঠন করা হবে। এ ছাড়া ৬৪টি জেলা এবং ৫টি বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী পাঠদান পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানান।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খায়রুল আবেদীন স্বপন এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুভাষ। তারা শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ খোরশেদ আলম মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমাবেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন