মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ৮০ বছর বয়সী মো. শাহাজালাল শেখের দ্বিতীয় বিয়ে এবং জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে তাঁর পরিবারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস করছেন এবং সেখান থেকেই ধারাবাহিকভাবে জমি বিক্রি করছেন। তবে শাহাজালাল শেখ দাবি করেছেন, ছেলেদের দুর্ব্যবহারের কারণেই তিনি বাড়ি ছেড়ে রাজধানীতে চলে গেছেন।
শনিবার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাড়ইপাড়া গ্রামে শাহাজালাল শেখের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
শাহাজালাল শেখের মেয়ে নাসিমা আক্তার বলেন, তাঁর বাবা বর্তমানে কোথায় এবং কী অবস্থায় আছেন, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, “আমার বাবা বৃদ্ধ মানুষ। আমরা শুনেছি তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমরা বাবাকে ফেরত পেতে চাই।”
বড় ছেলে আলমগীর শেখের অভিযোগ, ধীপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম হালদার ও শাহজাহান ব্যাপারীর সহযোগিতায় তাঁর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের সহায়তায় তিনি জমি বিক্রি করে চলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আলমগীর শেখ বলেন, “বাবা বৃদ্ধ মানুষ। তাঁর টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গেলে দ্বিতীয় পক্ষের লোকজন তাঁকে আর দেখবে কি না, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।” তিনি আরও বলেন, বাবার সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও পরিবারের সদস্যরা চান তিনি স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।
এ বিষয়ে শাহ আলম হালদার বলেন, শাহাজালাল শেখ দ্বিতীয় বিয়ের পর রাজধানীর উত্তরা এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে ও জামাইয়ের সহযোগিতায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে শাহাজালাল শেখ একটি গাড়ি কিনেছেন এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন।
পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে শাহ আলম হালদার বলেন, “পরিবারের সদস্যরা শাহাজালালের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। জমি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত তাঁর সম্পূর্ণ নিজস্ব বিষয়।”
অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে শাহাজালাল শেখ বলেন, “আমার ছেলেরা আমাকে মারতে আসে। তাই আমি বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি। আমি এখন ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। আমার টাকার প্রয়োজন, তাই জমি বিক্রি করছি।”
তবে শাহাজালাল শেখের দ্বিতীয় বিয়ের বিস্তারিত তথ্য এবং জমি বিক্রিসংক্রান্ত পরিবারের অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।