Skip to main content

Ridge Bangla

দ্বিতীয় দিনও ফিলিপাইনের জাহাজে চীনের জলকামান হামলা, বাড়ছে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ফিলিপাইনের জাহাজ লক্ষ্য করে জলকামান ব্যবহার করেছে চীন। ফিলিপাইন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, স্কারবোরো শোলের কাছে চীনের একটি জাহাজ দেশটির একটি মাছ ধরার নৌকার মাত্র সাত মিটারের মধ্যে চলে এসে সংঘর্ষের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ফিলিপাইন কোস্টগার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত স্কারবোরো শোল এলাকায় ঘটেছে।

কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে টারিলা বলেন, চীন কোস্টগার্ডের এ ধরনের বিপজ্জনক ও অপেশাদার আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ফিলিপাইন। তিনি বলেন, স্কারবোরো শোল ফিলিপিনো জেলেদের ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার এলাকা এবং কোনো বিদেশি শক্তি তাদের এ অধিকার খর্ব করতে পারে না।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের দাবি, এ ঘটনায় চীন কোস্টগার্ডের ১২টি এবং চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়ার তিনটি জাহাজ অংশ নেয়। জলকামান হামলায় ফিলিপাইনের দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি সংঘর্ষ এড়াতে আরও দুটি জাহাজকে ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলে সরে যেতে হয়।

জাহাজগুলো ফিলিপিনো জেলেদের জন্য জ্বালানি ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্কারবোরো শোলে নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘বাজো দে মাসিনলোক’ নামে পরিচিত এবং ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত বলে দেশটির দাবি।

এর আগের দিন চীন কোস্টগার্ড জানিয়েছিল, স্কারবোরো শোলের আশপাশে অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে তারা ফিলিপাইনের কয়েকটি জাহাজের বিরুদ্ধে ‘নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা’ নিয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, ফিলিপাইন সরকারি ও কোস্টগার্ডের জাহাজের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মাছ ধরার নৌকা সেখানে অবৈধভাবে জড়ো করেছিল।

চীনের ভাষ্য, তাদের কোস্টগার্ডের সতর্কবার্তা ও বাধা উপেক্ষা করে ফিলিপাইনের সরকারি জাহাজগুলো জোরপূর্বক জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় সতর্ক করা, পথরোধ এবং জলকামান ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কোস্টগার্ডের পদক্ষেপ ছিল যৌক্তিক, আইনসম্মত এবং প্রশ্নাতীত। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ফিলিপাইনের উচিত অবিলম্বে অনুপ্রবেশ, উসকানি এবং অযৌক্তিক উত্তেজনা সৃষ্টি বন্ধ করা।

স্কারবোরো শোলে নতুন এ উত্তেজনার কয়েক দিন আগেই বিতর্কিত সেকেন্ড থমাস শোলে দুই দেশের মধ্যে আরেকটি সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ফিলিপাইনের দাবি, সেখানে চীনা কোস্টগার্ড সদস্যদের লাঠির আঘাতে একজন ফিলিপিনো নাবিক আহত হন। তবে বেইজিংয়ের অভিযোগ, ফিলিপাইনের নৌবাহিনী সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে চীনের একটি টহল জাহাজকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ওই ঘটনার পর উভয় দেশই একে অপরের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।

দীর্ঘদিন ধরেই চীন স্কারবোরো শোল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং দক্ষিণ চীন সাগরজুড়ে কোস্টগার্ডের বড় বহর মোতায়েন করে রেখেছে। একই সঙ্গে তারা পুরো জলপথের প্রায় সব অংশের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে, যার মধ্যে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশও রয়েছে।

ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আঞ্চলিক বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই নতুন এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অংশ নেন। সেখানে রুবিও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কর্মকাণ্ডকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন এবং ফিলিপাইনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

This post was viewed: 13

আরো পড়ুন