Ridge Bangla

তেহরানে ট্রাম্প পরিবারের কফিনচিত্রসহ নতুন বিলবোর্ড

ইরানের রাজধানী তেহরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের ছবি সংবলিত একটি নতুন বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। মার্কিন পতাকায় মোড়ানো একটি কফিনের ওপর ট্রাম্প পরিবারের ছবি ব্যবহার করে সেখানে ফার্সি ভাষায় ‘রক্তের বদলে রক্ত’ স্লোগান লেখা হয়েছে।

বিলবোর্ডটির পটভূমিতে জ্বলন্ত হোয়াইট হাউসের ছবি রয়েছে। এতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি তার পাঁচ সন্তান ইভাঙ্কা ট্রাম্প, ডন জুনিয়র, এরিক ট্রাম্প, টিফানি ট্রাম্প ও ব্যারন ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ছবিও স্থান পেয়েছে।

এটি দ্বিতীয়বারের মতো তেহরানে বিলবোর্ডের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে এমন বার্তা দেওয়া হলো। এর আগে রাজধানীর ইনকিলাব চত্বরে স্থাপিত আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি কফিনের ভেতরে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারে উন্মুক্ত স্থান ব্যবহার করে আসছে। তবে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটি প্রচারণার অংশ হিসেবে তেহরানের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে বিপ্লব, যুদ্ধ এবং আদর্শিক বার্তাসংবলিত বড় বড় বিলবোর্ড স্থাপন জোরদার করেছে।

আগের বিলবোর্ডে একটি খোলা কালো কফিনের ভেতরে ট্রাম্পের মরদেহের প্রতীকী চিত্র দেখানো হয়েছিল। সেখানে তাকে এলোমেলো চুল, বন্ধ চোখ ও মুখ এবং ফোলা পেটের ওপর লাল টাইয়ের ওপর দুই হাত রাখা অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়। কফিনের প্রান্তে তার পা সোজা ওপরে তুলে দেখানো হয়েছিল।

তেহরানের ভালিয়াসর স্কয়ারের এসব বৃহৎ দেয়ালচিত্র ও বিলবোর্ডের নকশা করেছে ওজ আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া অর্গানাইজেশন, যা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এই প্রতিশোধ “অবশ্যই নেওয়া হবে” এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা “বিছানায় শান্তিতে মরতে পারবে না”।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ইরানের শীর্ষ নেতারা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আসছে। নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে মোজতবা খামেনি লেখেন, “এই প্রতিশোধ আমাদের জাতির দাবি এবং এটি নিশ্চিতভাবেই নেওয়া হবে। এই অপরাধীরা, যাদের নাম ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবার জানা; বিছানায় শান্তিতে মরার অপূর্ণ ইচ্ছা নিয়েই কবরে যাবে। তারা যেন জেনে রাখে, এটি আমার ব্যক্তিগত উপস্থিতি বা অন্য কোনও কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করে না।”

অন্যদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তাকে হত্যায় সফল হয়, তাহলে তিনি আগেই কর্মকর্তাদের ইরানে ব্যাপক বোমা হামলার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের তালিকায় আছি। আমাদের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে… শুধু একটি বিষয় হলো, আমার অনুপস্থিতিতে যদি কিছু ঘটে, তাহলে আমি নির্দেশ দিয়ে রেখেছি তাদের ওপর এমন মাত্রায় বোমাবর্ষণ করতে; যা তারা এর আগে কখনও দেখেনি।”

ইরানি সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় নিরাপত্তার কারণে তার ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছিল। পরে হোয়াইট হাউসও বিষয়টি নিশ্চিত করে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানজুড়ে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী দিনগুলোতে ইসরায়েলে কয়েক ডজন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন ও ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভবিষ্যতে নতুন করে সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন