Ridge Bangla

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সামরিক ড্রোন নামাল শ্রীলঙ্কা, মৃত্যু ৫৬

প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের মুখে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে সামরিক ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাজধানী কলম্বোসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায় সরকার। জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিট ইতোমধ্যে ১৬২টি এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের সরকার সামরিক বাহিনীর অধীনে একটি বিশেষ নজরদারি ইউনিটও গঠন করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষার পানিতে ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে বিমানবাহিনীর ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়িঘর, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মশার লার্ভা বা প্রজননস্থল খুঁজে বের করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য ভাইরাসের তুলনামূলক বেশি সংক্রামক একটি ধরন দায়ী। আক্রান্তদের প্রায় ৭৫ শতাংশের শরীরে ডিইএনভি-২ ধরনের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা রাখে।

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনেই দেশটিতে ২১ হাজার ৬৫০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে মে মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৫৯০ এবং জুনে ২১ হাজার ৫৩৭। জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহেই ১৮ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত শয্যা ও বিশেষ ওয়ার্ড চালুর পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মঘণ্টাও বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং অন্তত ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার আগেভাগেই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গত ডিসেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ ও জমে থাকা পানির কারণে মশার প্রজননস্থল বেড়ে গেছে। এ মাসে প্রায় ১১ হাজার প্রজননস্থল পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় ৪ হাজারের বেশি স্থাপনাকে জরিমানা করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগস্টে বর্ষার তীব্রতা কমে এলে ডেঙ্গুর প্রকোপও হ্রাস পাবে। তবে নভেম্বর থেকে বৃষ্টিপাত বাড়লে সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছেন, যেসব রোগীর উপসর্গ তুলনামূলক মৃদু, তারা বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর টিকা ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে শ্রীলঙ্কা। তবে ভাইরাসটির একাধিক ধরন ছড়িয়ে পড়ায় টিকার কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন