Skip to main content

Ridge Bangla

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে সরকারের প্রতি আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে যথাযথভাবে ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এ দায়িত্ব সরকারেরই এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবেন বলে তিনি আশা করেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই অধিদপ্তরের উদ্যোগে শহীদদের প্রোফাইল এবং আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের তথ্য ইতিহাসের অংশ হিসেবে সংরক্ষণের যে কার্যক্রম চলছে, সেটিকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি বলেন, সরকারি দল থেকে যেমন বলা হচ্ছে জুলাই সবার, বিরোধী দল থেকেও একই কথা বলা হচ্ছে। তার ভাষায়, “সরকারি দল থেকেও বলছি, জুলাই আমাদের; বিরোধী দল থেকেও বলছি, জুলাই আমাদের। তাই জুলাই যেন সত্যিকার অর্থেই সবার হয়ে ওঠে, সেটাই আমরা দেখতে চাই।”

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। পাশাপাশি জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠনের বিষয়ে সরকারের আশ্বাসকেও তিনি স্বাগত জানান এবং আগাম ধন্যবাদ জানান।

বর্তমান জাতীয় সংসদকে একটি ব্যতিক্রমী সংসদ উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এটি সবসময়ই ‘মজলুমের মিলনমেলা’ হিসেবে পরিচিত। সংসদের কার্যক্রম যত বেশি সুন্দর ও গঠনমূলক হবে, ততই মানুষের হতাশা কমবে, রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং দেশ গঠনে সবাই আরও উৎসাহিত হবে।

চলতি বছরের বন্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪টি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। প্রাণহানির অধিকাংশ ঘটনাও সেখানে ঘটেছে। এ বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই অতীতের নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সংসদে সমালোচনা থাকবে, তবে তা সংসদীয় শিষ্টাচার ও বিধিবিধান মেনেই হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং এতে তিনি আংশিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে এখনও কিছু নেতিবাচক প্রবণতা রয়ে গেছে উল্লেখ করে সেগুলোও দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

দুর্নীতির বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতীয় সংসদ যদি দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা না করে, তাহলে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব। তবে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা পক্ষপাতিত্ব অব্যাহত থাকলে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

This post was viewed: 14

আরো পড়ুন