Ridge Bangla

জর্ডানে হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, পাল্টা বিমান হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এর জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় আহত আরও চার মার্কিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়া সামান্য আহত অন্য সেনারা আবারও দায়িত্বে ফিরেছেন।

তবে নিহত দুই সেনার পরিচয় কিংবা তারা কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।

সেন্টকম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানে আরও এক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ভাষ্য, টানা অষ্টম রাতের এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করার ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানোর জন্য দায়ী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যদের দ্রুত শাস্তি দিতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। এর মধ্যে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের পদক্ষেপ পুনর্বহাল করেছে। অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে এক মাসও পূর্ণ হওয়ার আগেই দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।

শনিবার রাতে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার চুক্তি ভঙ্গ করে প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের কাছে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ অপেক্ষা করছে।

এর আগে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, রাতভর তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

শনিবারের এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে সেন্টকম ও মিত্র বাহিনীর অভিযানের সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও একজন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহতদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের পরিচয় এবং অন্যান্য তথ্য স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না।

দুই সেনার মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।’

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস শনিবার ভোরে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে অন্তত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। তবে এ বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে সেন্টকমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ব্যক্তিদের, বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। ভ্রমণ–সংক্রান্ত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চলমান পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন