Ridge Bangla

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে সাতজনকে পুশইনের দাবি, ভিডিও ভাইরাল হলেও মিলছে না তাদের সন্ধান

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে- এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে দেখা গেলেও তাদেরসহ বাকি পাঁচজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে জীবননগর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় দেখা যায়। পরে তারা কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির বক্তব্যেও মিল পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, সকাল ছয়টার দিকে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক সাংবাদিক ওই দুই ব্যক্তির বক্তব্য ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটি গ্রামে বলে পরিচয় দেন। তাদের দাবি, একই সময়ে আরও পাঁচজনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছিল। তবে ওই পাঁচজনের অবস্থান সম্পর্কে তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

ভিডিওতে দেখা যায়, জিনসের প্যান্ট, সাদা ছাপা শার্ট ও কেডস পরা আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং লাল পাঞ্জাবি, কালো প্যান্ট ও কেডস পরা আরেক ব্যক্তি মাথায় নীল রঙের ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। পরে তাদের একটি ভ্যানে উঠে চলে যেতে দেখা যায়।

ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের আপন ভাই বলে পরিচয় দেন। তাদের একজনের নাম আমিনুর রহমান এবং অন্যজন খলিলুর রহমান। তারা জানান, তাদের বাবার নাম মোহাম্মদ আলী সানা।

আমিনুর রহমানের দাবি, ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে তাদের দুই ভাইসহ মোট সাতজনকে ভারতের পাটোয়ারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্ত অতিক্রমের পর বাকি পাঁচজন কোথায় গেছেন, তা তারা জানাতে পারেননি। এছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিজিবির কোনো সদস্যের সঙ্গেও তাদের দেখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর আগে তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তারা নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

এদিকে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম। তিনি বলেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের দাবি অনুযায়ী পাটোয়ারী সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ৫৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন ভারতীয় অংশে ‘পাটোয়ারী’ নামে কোনো গ্রাম নেই। এছাড়া ভিডিওতে থাকা দুই ব্যক্তিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন