চীনের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ‘চীনা সামরিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়।
মামলায় চলতি মাসে প্রকাশিত পেন্টাগনের একটি তালিকায় আলিবাবার নাম যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চীনা সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক রয়েছে।
তবে আদালতে দেওয়া আবেদনে আলিবাবা বলেছে, পেন্টাগনের সিদ্ধান্তের ‘কোনো বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই’।
আজ বুধবার (২৪ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপিকে আলিবাবার এক মুখপাত্র বলেন, ‘আলিবাবা কোনো চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠান নয় এবং কোনো সামরিক-নাগরিক সমন্বয় কৌশলেরও অংশ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আলিবাবাকে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক। তাই তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহারের দাবিতে আমরা প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।’
চলতি মাসে পেন্টাগন ৮০টি কোম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নতুন একটি কালোতালিকা প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে।
তালিকায় আলিবাবার পাশাপাশি চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইডু এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই তালিকার কারণে আগামী ৩০ জুন থেকে পেন্টাগন এসব কোম্পানি বা তাদের নিয়ন্ত্রিত সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি করতে পারবে না।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে লবিং প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো। আলিবাবার দাবি, এসব বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা মতপ্রকাশ ও প্রতিনিধিত্বের অধিকারের পরিপন্থী।
মামলায় প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বহু বছর ধরে আলিবাবার পক্ষে কাজ করা কয়েকটি নীতিনির্ধারণী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোম্পানিকে জানিয়েছে যে তারা আর প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না।’
আদালতে আলিবাবা আরও জানিয়েছে, তারা একটি পাবলিকলি ট্রেডেড ই-কমার্স ও ক্লাউড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারধারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান, সিটি গ্রুপ ও ব্ল্যাক রকের উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পাল্টা জবাবে গত সোমবার (২২ জুন) ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা খাত ও বিরল খনিজ উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত।