বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বাতাস থেকে অক্সিজেন উৎপাদনকারী একটি জেনারেটর প্লান্ট গত চার বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে ভারত থেকে আমদানি করা তরল অক্সিজেন ব্যবহার করে অন্য একটি প্লান্টের মাধ্যমে রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে অতিরিক্ত পাঁচ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম জানান, বিকল প্লান্টটি চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) উদ্যোগে মিশর থেকে উপহার হিসেবে আনা বাতাস থেকে অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্লান্টটি হাসপাতালে স্থাপন করা হয়। প্লান্টটি থেকে উৎপাদিত অক্সিজেন সিলিন্ডারজাত করে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো। পাশাপাশি বরগুনার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ওই অক্সিজেন সরবরাহ করা হতো।
তবে স্থাপনের এক বছরের মধ্যেই প্লান্টটি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে বাতাস থেকে অক্সিজেন উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে লিনডে নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্থাপন করা অন্য একটি প্লান্টে ভারত থেকে আমদানি করা তরল অক্সিজেন ব্যবহার করে হাসপাতালের চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, বিকল প্লান্টটি চালু করা গেলে ব্যয় কমার পাশাপাশি হাসপাতালের চাহিদা পূরণ করে আবারও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্লান্টটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সেটি সংরক্ষিত কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। কক্ষের ভেতরে যন্ত্রাংশে ধুলা জমেছে এবং বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ভবিষ্যতে প্লান্টটি মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়ার বা মেরামত ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের অফিস সহকারী মো. জালাল আহমেদ বলেন, করোনার সময় প্লান্টটি চালু হওয়ার পর প্রায় দুই বছর ব্যবহার করা হয়েছে। সে সময় তরল অক্সিজেনের প্লান্ট বন্ধ রেখে এখান থেকেই অক্সিজেন উৎপাদন ও বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে এটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তরল অক্সিজেন প্লান্টের জন্য প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা সিলিন্ডার ভাড়া দিতে হয়। এছাড়া প্রতিবার তরল অক্সিজেন সংগ্রহে দেড় লাখ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কোনো কোনো মাসে দুই থেকে তিনবার অক্সিজেন আনতে হওয়ায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
প্রধান সহকারী মো. শহিদুল ইসলাম (স্বপন) বলেন, মিশর থেকে পাওয়া অক্সিজেন প্লান্টটি কিছুদিন চালুর পর বিকল হয়ে যায়। এটি সচল করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে প্লান্টটি আবার চালু করা সম্ভব হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বাতাস থেকে অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্লান্টটি সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত প্লান্টটি চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।