বরিশালের গৌরনদীতে সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা বানরুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রুটি খাওয়ার আগে সেটি ছিঁড়ে ব্লেড দেখতে পেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বুধবার সকালে গৌরনদী পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে একজন চিকিৎসক, সেনিটারি কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিড-ডে মিল কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের টিফিন বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী বানরুটি ছিঁড়ে খাওয়ার আগে এর ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড দেখতে পায়। ফলে রুটি খাওয়ার আগেই ব্লেডটি শনাক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীটি শারীরিকভাবে কোনো ক্ষতির শিকার হয়নি।
বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সায়ফুন নাহার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়টিতে বানরুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান বলেন, তাদের জন্য যে প্রতিষ্ঠানে বানরুটি তৈরি হয় সেখানে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে উৎপাদন করা হয়। তার দাবি, উৎপাদনের সময় ব্লেড থাকলে তাতে পোড়া দাগ থাকার কথা। এছাড়া প্রতিটি রুটি মেটাল ডিটেকটরের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। তাই কীভাবে ব্লেডটি সেখানে এসেছে কিংবা এটি তাদের সরবরাহ করা রুটি কি না, সে বিষয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।
ঘটনার পর অভিভাবকেরা সরকারি টিফিনের খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া কমানোর লক্ষ্য নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হয়। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় খাবার পাচ্ছে।