Ridge Bangla

গোখরা ধরতে গিয়ে সাপের ছোবল, হাসপাতালে ভর্তি ‘বিষঝাড়া ওঝা’

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় একটি বসতবাড়ি থেকে গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের ছোবলে আহত হয়েছেন ইমরান হোসেন (৩৮) নামে এক সাপুড়ে। নিজেকে সাপুড়ে ও ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ ধরার ভিডিও নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ইমরান ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্তান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে আমিরুল ইসলামের বাড়িতে সাপ উদ্ধারের জন্য যান ইমরান। বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে একটি গর্ত থেকে গোখরা সাপ বের করার পর সেটি ধরার চেষ্টা করলে অসাবধানতাবশত সাপটি তার হাঁটুর ওপরে ছোবল দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট সাপের কামড়ে মারা যান। এরপর শুক্রবার বাড়িটিতে আবার সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা তাকে খবর দেন।

তিনি বলেন, প্রথমে উঠান থেকে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করেন। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ বের করেন। সাপটি ধরার প্রায় দেড় মিনিট পর অসাবধানতাবশত সেটি তার হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

ঘটনার পর ইমরান হোসেনের একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি নিজেকে সাপুড়িয়া পরিচয় দিয়ে সাপ ধরা ও সাপের বিষ ঝাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসার দাবি করেছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার পর ইমরানকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। পরে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত। তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। যাদের সাপে কাটে, তাদের দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো উচিত।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন