ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকার এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, মিশরের শারম আল-শেখে অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ের কাঠামো অনুমোদন করেছে। তবে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।
চুক্তির প্রথম ধাপে ইসরায়েলি সেনাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজার একটি নির্দিষ্ট ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে সরে যেতে হবে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাস জীবিত প্রায় ২০ জন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেবে। ধাপে ধাপে নিহতদের মৃতদেহও ফেরত দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল ২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ২৫০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং অনেকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর আটক।
চুক্তির মেয়াদ নির্দিষ্ট না হলেও এটিকে দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর প্রথম বড় শান্তি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
হামাসের সিনিয়র নেতা খালিল আল-হায়্যা বলেছেন, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং রাফা সীমান্ত পুনরায় খোলা হবে। তিনি আরও জানান, এটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে।