টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি ওঠানামা করায় জেলার নদীতীরবর্তী ২৫টি স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার ভাঙনে ইতোমধ্যে আড়াই শতাধিক বসতভিটা, একটি মসজিদ এবং চার শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে আরও পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ আবাদি জমি এবং কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, সদর ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চল। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার পানি বেড়েছে। তবে করতোয়া নদীর পানি কমেছে। পানি ওঠানামার কারণেই নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মমিনা বেগম বলেন, ‘নদীত হামার আবাদি জমা-জমি ধপাস ধপাস করি ভাঙি পড়ছে। এবার যে ভাবে ভাঙছে, বাঁচি থাকার জন্য কিছু থাকপার নয় মনে হয়।’
আরেক ভুক্তভোগী ফয়জার রহমান বলেন, বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চরের মানুষকে সারা বছরই এ ধরনের ভাঙনের মুখোমুখি হতে হয়।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ইউনিয়নের সব ওয়ার্ডই চরাঞ্চলে অবস্থিত। গত ২৪ ঘণ্টায় লালচামার এলাকায় প্রায় ৫০টি বসতভিটা, অসংখ্য গাছপালা, একটি স্কুল ও একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙন ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ করা হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা এবং ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।