গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কারাবন্দী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামিকুল ইসলাম লিপন (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভাঙচুর ও মারামারির একটি মামলায় গত ১৮ অক্টোবর শামিকুল ইসলাম কারাগারে যান। এর আগে থেকেই তিনি হৃদরোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।
কারা সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করলে তাঁকে প্রথমে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ২টা ৫০ মিনিটে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগের প্রধান ডা. হরিপদ সরকার। তিনি বলেন, শামিকুল ইসলামের শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা ছিল। চিকিৎসা চলাকালীন রাত ৩টা ৫০ মিনিটে তিনি মারা যান।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, আজ বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তমাল আজাদের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ এশার নামাজের পর পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রীপুরে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
শামিকুল ইসলাম লিপন পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরীহরিণমারী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি প্রয়াত আবদুর জব্বার সরকারের ছেলে এবং পলাশবাড়ী মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর একটি মামলায় ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরে জামিন পেলেও পরবর্তীতে আরেক মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী হন।