জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বিএনপি সরকার সেই গণভোটের রায়কে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
মঙ্গলবার বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, হত্যা, আয়নাঘরে বন্দিত্ব, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরে শিক্ষার্থী ও আলেমদের হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল। কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন ন্যায্য আন্দোলনও কঠোরভাবে দমন করা হয়। সে সময় দেশের মানুষ একদিকে ওই শাসনের অবসান এবং অন্যদিকে ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ শুধু স্বৈরশাসনের অবসান নয়, রাষ্ট্র ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারও চেয়েছিল। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার পিছিয়ে এসেছে।
আখতার হোসেনের দাবি, বিএনপি তাদের আগে ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির বিভিন্ন অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। সংবিধান সংস্কার, নতুন কাঠামোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগে স্বচ্ছ নিয়োগের বিষয়ে দলটির বর্তমান অবস্থান পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে দেশে ঋণের বোঝা বাড়ছে এবং বাজেট ঘোষণার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাষ্ট্র সংস্কার জরুরি বলে তিনি মত দেন।
তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে এনসিপি ইতোমধ্যে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এনসিপি-সমর্থিত প্রার্থীরা অংশ নেবেন। ভোটাধিকার, প্রশাসনের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
পথসভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) আবু সাঈদ লিওনসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।