দেশের খালগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খননকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ কার্যক্রম শেষ হলে পর্যায়ক্রমে নদী খনন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে ১০ হাজার গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মা-বাবা যেমন সন্তানকে লালন-পালন করেন, তেমনি একটি গাছ লাগানোর পর তারও যত্ন নিতে হবে। তার ভাষ্য, বৃক্ষ শুধু অক্সিজেনই সরবরাহ করে না, পাশাপাশি ফল, জ্বালানি কাঠ এবং আসবাবপত্র তৈরির কাঁচামালও দেয়। তাই বসতবাড়ির আশপাশ, পতিত জমি, নদীর তীর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বেশি করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের অনেক খাল যথাযথভাবে খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়েছে। এসব খাল খনন করে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকেরা উপকৃত হবেন। তিনি আরও বলেন, খাল খননের কাজ শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে নদী খননও শুরু হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের নিরাপত্তা, অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশের উন্নয়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে সামাজিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল এবং গ্রিন ভিউ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের সভাপতি মো. আশরাফুল আলম খান।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির ১০ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাগুরা জেলা পুলিশ ১০ হাজার গাছ রোপণ করবে। এ উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।