কুষ্টিয়ার কুমারখালীর একটি বিদ্যালয়ের প্রায় ১০ মণ পুরোনো রড ও একটি লোহার দরজা সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে রাতের আঁধারে সরিয়ে বিক্রির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মো. মিজানুর রহমান।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হকের সই করা নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের পুরোনো রড রাতের আঁধারে বিক্রি করেছেন। এভাবে সরকারি মালামাল বিক্রি বিধিসম্মত নয়। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কেন সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, গত ২১ জুলাই রাত ৮টার দিকে প্রায় আধাঘণ্টা বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। এ সময় প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান এবং নৈশপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমান বিদ্যালয়ের পুরোনো রড ও একটি লোহার দরজা ভ্যানে তুলে নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিব বলেন, ওই রাতে বাড়ি ফিরে বিদ্যালয়ের লাইট বন্ধ এবং সেখানে একটি ভ্যান দেখতে পান। পরে গুদামঘরের কাছে গিয়ে তিনি প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী ও এক ভ্যানচালককে রড টেনে বের করে ভ্যানে তুলতে দেখেন বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, এর আগেও প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরী রাতের বেলায় বিদ্যালয়ের রড, ভাঙা বেঞ্চসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই রাতে প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী ও একটি ভ্যান বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর হঠাৎ ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট পর আবার ফুটেজে ভ্যানে করে রড ও দরজা নিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে ভ্যানচালককে শনাক্ত করা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের রড চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি শোকজের চিঠি পেয়েছেন এবং নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে জবাব দেবেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের পুরোনো রড বিক্রির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। তাঁর জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।