ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জনাব শরীফ মোঃ ওসমান হাদীর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁর সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
প্রাইমারি কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. আলিউজ্জামান জোয়ার্দার এবং আইসিইউ কনসালটেন্ট হিসেবে রয়েছেন ডা. মোঃ জাফর ইকবাল। মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সিনিয়র কনসালটেন্ট, নিউরো অ্যানেস্থেশিয়া ও আইসিইউ; ডা. লুতফুল আজিজ, সিনিয়র কনসালটেন্ট, অ্যানেস্থেশিয়া ও পেইন মেডিসিন; ডা. জিল্লুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট, নিউরোসার্জারি; ডা. এ. কে. এম. রেজা, সিনিয়র কনসালটেন্ট, কার্ডিওলজি; ডা. মাসুম কামাল খান, সিনিয়র কনসালটেন্ট, নেফ্রোলজি; ডা. জিয়াউল হক, সিনিয়র কনসালটেন্ট, রেসপিরেটরি মেডিসিন; ডা. খন্দকার মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট, নিউরোমেডিসিন; ডা. এস. এম. হাসান শাহরিয়ার, সিনিয়র কনসালটেন্ট, নিউরোমেডিসিন; ডা. জুলফিকার হায়দার, সিনিয়র কনসালটেন্ট, কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি; ডা. শাহিনুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট, বক্ষব্যাধি সার্জারি; ডা. আতিয়ার রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট, অর্থোপেডিক্স; ডা. একরাম উদ্দৌলা, সিনিয়র কনসালটেন্ট, নাক-কান-গলা; এবং ডা. কাজী স্মিতা হক, কনসালটেন্ট, হেমাটোলজি।
সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ডা. আরিফ মাহমুদ, ডিএমএস, এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা।
মেডিকেল বোর্ড জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনাব শরীফ মোঃ ওসমান হাদীর প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অপারেশন-পরবর্তী উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকার ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। আজ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, চিকিৎসার দ্বিতীয় দিনে মেডিকেল বোর্ড পুনরায় তাঁর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেছে।
আজ সকালে পুনরায় করা সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে, মস্তিষ্কের ফোলা (Cerebral Edema) পূর্বের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
রোগীর ফুসফুসের কার্যকারিতা ও মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি বা অবনতি পরিলক্ষিত হয়নি। চেস্ট ড্রেইন টিউব সচল রয়েছে।
রোগীর কিডনির কার্যক্ষমতা বর্তমানে বজায় আছে এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পূর্বের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে ব্রেন ইনজুরির কারণে শরীরের কিছু হরমোনগত ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে, যা প্রতি ঘণ্টায় ইউরিন উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। এ কারণে এসিড-বেস ব্যালেন্স, ফ্লুইড ও ইলেক্ট্রোলাইট অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা করা হচ্ছে।
রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের ভারসাম্যহীনতা বর্তমানে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ব্রেন স্টেমে আঘাত ও মস্তিষ্কের অতিরিক্ত ফোলাজনিত চাপের কারণে রোগীর রক্তচাপে ওঠানামা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আজ রোগীর হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সাপোর্ট চলমান রয়েছে।
রোগীর ব্লাড সুগার নিবিড়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে। এই ধরনের জটিল ও সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থায় ব্লাড সুগারের ওঠানামা একটি পরিচিত ক্লিনিক্যাল চ্যালেঞ্জ, যা মেডিকেল টিম সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে রাখছে।
মেডিকেল বোর্ড জানায়, রোগীর সার্বিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তবে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রোগীর পরিবার অথবা পরিবারের মাধ্যমে সরকার যদি রোগীকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, সে ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মেডিকেল বোর্ড সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে। রোগীর পরিবারকে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
সবশেষে, সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে- অপ্রয়োজনে হাসপাতালে ভিড় না করতে এবং কোনো ধরনের অনুমানভিত্তিক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে। জনাব শরীফ মোঃ ওসমান হাদীর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীসহ সকলের কাছে মেডিকেল বোর্ড দোয়া প্রার্থনা করেছে।
বিবৃতিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন ডা. মোঃ জাফর ইকবাল, সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর, আইসিইউ ও এইচডিইউ, এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা।