এল নিনোর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় আগামী কয়েক মাস তীব্র খরা এবং পরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পরিবেশমন্ত্রী ড. ধাম্মিকা পাতাবেন্দি।
কলম্বো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির পাঠানো খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার এ সতর্কবার্তা দিয়ে পরিবেশমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত দেশে তীব্র শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সেচ ও পানীয় জলের মজুত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করছে কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, আগামী দুই মাসে পানির সংকট দেখা দিতে পারে। তাই সবাইকে পানীয় জল সাশ্রয় করে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বৈরী আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে। এ বছর মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে এল নিনো ফিরে আসায় বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ড. ধাম্মিকা পাতাবেন্দি বলেন, অক্টোবরে শুরু হওয়া উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশে ব্যাপক বন্যা হতে পারে। এ কারণে কৃষকদের নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ অক্টোবরের শুরুতেই প্রধান ধান চাষ মৌসুম শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের স্বাভাবিক সময়ের আগেই চাষাবাদ শুরু করতে হবে। বিশেষ করে ধানসহ ফসল রক্ষায় বন্যা ব্যবস্থাপনা আরো ভালোভাবে নিশ্চিত করতে হবে।”
এল নিনোর কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার একটি মন্ত্রীপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের জলবিদ্যুৎ জলাধারগুলোর ধারণক্ষমতার ৫৭ শতাংশ পানি রয়েছে। দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে, যাতে জলাধারের পানি সংরক্ষণ করা যায়।
তারা আরও জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। গত নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার আঘাতে এসব এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের পুরো দ্বীপ দেশটি ক্ষতির মুখে পড়ে। এতে প্রায় ৬৫০ জনের মৃত্যু হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু অবকাঠামো খাতেই ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪১০ কোটি মার্কিন ডলার।