নারীকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
শুক্রবার সকাল ও বিকেলে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও বংশীপুর এলাকায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।
তাদের অভিযোগ, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরী মরিয়মের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের পর আরও এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। এমন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি জাতীয় সংসদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন উল্লেখ করে দ্রুত তাকে বহিষ্কার করে সংসদকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি জানান তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকশ মানুষ মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন। রুস্তম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন যুবদল নেতা হেলাল, ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক, শিক্ষক পরিমলসহ অনেকে।
এদিকে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বংশীপুর পোনার আড়ত চত্বরে স্থানীয় গ্রামবাসী ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে আরেকটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পল্লী চিকিৎসক জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম, মুনজুর হোসেন, বাপ্পী মণ্ডল, দেবদাস মণ্ডল, খাইরুল ইসলাম ও তৌহিদ হোসেন।
সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। পাশাপাশি তার ছবিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচিও পালন করেন।
এ সময় বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেন। একই সঙ্গে পদত্যাগ না করে শ্যামনগরে ফিরলে তাকে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দেন।