Ridge Bangla

এপস্টেইন তদন্তে ৩ নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার বিল গেটসের

জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তে দেওয়া সাক্ষ্যে ৩ নারীর সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। প্রকাশিত সাক্ষ্যের প্রতিলিপির বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ জুন দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রথমে দুই রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানান গেটস। তাদের একজন ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং অন্যজন পারমাণবিক পদার্থবিদ কারিমা নিগমাতুলিনা। পরে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের মুখে আরও এক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি। ওই নারী হলেন চিকিৎসা-উদ্যোক্তা ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরট।

একসময় বিশ্বের শীর্ষ ধনী থাকা এই ব্যবসায়ী দাবি করে আসছেন, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কোনো যৌন নির্যাতনের ঘটনা তিনি প্রত্যক্ষ করেননি। এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্তকে তিনি ‘একটি ভুল’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ আবারও অস্বীকার করেন গেটস। তবে তিনি জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় অজান্তেই তিনি নির্যাতনের শিকার কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে থাকতে পারেন। কারণ এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নারী ও কিশোরী তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

গেটস জানান, তার আশঙ্কা ছিল কোনো এক নারীর মাধ্যমে তিনি যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি এপস্টেইন এবং তার পরিচিত এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করে থাকতে পারেন বলেও জানান।

তিনি আরও বলেন, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয় জানার পর এপস্টেইন তাকে ব্ল্যাকমেইল করার কথা ভেবেছিলেন।

প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের একটি ই-মেইলে ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরটের নাম উল্লেখ করেছিলেন এপস্টেইন। কংগ্রেস সদস্যরা সেই ই-মেইল দেখানোর পর গেটস স্বীকার করেন, অতীতে ওই নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। তবে তিনি দাবি করেন, এপস্টেইন কখনো তাকে সফলভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে পারেননি।

সাক্ষ্যে গেটস জানান, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এপস্টেইনের সঙ্গে তার ১২ থেকে ১৪ বার দেখা হয়েছে। এ ছাড়া দুবার স্কাইপে কথা হয়েছে। তার দাবি, এসব বৈঠকের বেশিরভাগই ছিল দাতব্য কার্যক্রম ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার জন্য।

গেটস বলেন, ২০১১ সালে তিনি এপস্টেইনের আগের যৌন অপরাধের দণ্ডের বিষয়ে জানতেন। তারপরও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে অনুদান সংগ্রহের সম্ভাবনা বিবেচনায় সীমিত যোগাযোগ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় ২০১৪ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করেন তিনি।

২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান জেফ্রি এপস্টেইন। তাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত বছর থেকে বিভিন্ন নথি প্রকাশ শুরু করলে গেটসের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

সাক্ষ্যে গেটস একাধিকবার দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হননি এবং কাউকে গোপনে ওষুধও দেননি। তবে অতীতে এ ধরনের আশঙ্কা তার মনে তৈরি হয়েছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।

This post was viewed: 1

আরো পড়ুন