পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা, মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, তাঁর বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম রোববার কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা একটি খননযন্ত্র, ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। পরে জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে সেখানে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ও সঙ্গে থাকা শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখানো, ধাক্কাধাক্কি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত, প্রায় ৬ শতাংশ জমির অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলিযোগে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেন এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, রজপাড়া মৌজায় বিদ্যালয়ের নামে ২১ দশমিক ৭৬ একর জমি রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি ওই জমির দখলে রয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তাতে রাজি হননি। পরে থানায় গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, জমিটির মালিকেরা দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে তিনি বায়না চুক্তির মাধ্যমে জমি কিনেছেন। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর কোনো সাক্ষাৎ বা কথা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন।
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।