সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের রাখা অর্থ এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দুই হাজার পঁচিশ সালের শেষ নাগাদ এসব ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিরাশি কোটি একচল্লিশ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় বারো হাজার ছয়শ আটাত্তর কোটি টাকা। আগের বছর অর্থাৎ দুই হাজার চব্বিশ সালে এ অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ঊনষাট কোটি সুইস ফ্রাঁ।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার একুশ সালের পর দুই হাজার পঁচিশ সালেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ অর্থ জমা হয়েছে। গত দশ বছরের হিসাবেও এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জমার পরিমাণ।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, সুইস ব্যাংকে থাকা অর্থের পুরোটাই অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে- এমন ধারণা করা ঠিক নয়। ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক বৈধ প্রক্রিয়ায় এসব ব্যাংকে অর্থ রাখতে পারে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকের শাখায় হিসাব খুলে অর্থ জমা করে থাকেন।
এরপরও হঠাৎ করে জমার পরিমাণ বড় অঙ্কে বেড়ে যাওয়ায় অর্থ পাচারের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলামের মতে, দুই হাজার চব্বিশ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থ পাচার কমার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে সুইস ব্যাংকের নতুন তথ্য সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ না হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু সুইস ব্যাংক নয়, বিশ্বের আরও বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটে। তাই পাচার রোধের পাশাপাশি বিদেশে চলে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
দুই হাজার চব্বিশ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশ ছেড়ে যাওয়া কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া আগের বছরগুলোতে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের যে তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তার একটি অংশও নানা প্রক্রিয়ায় সুইস ব্যাংকে জমা হতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে সুইস ব্যাংক গোপনে অর্থ সংরক্ষণের নিরাপদ জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির ফলে বর্তমানে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। প্রয়োজন হলে সুইজারল্যান্ড এখন বিভিন্ন দেশের সরকারকে ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে থাকে।
তবে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশে থাকা অবৈধ অর্থ দেশে ফেরানো এখনো বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।