প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে সারা দেশে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে ঈদের এই ঘরে ফেরার যাত্রা অনেক পরিবারের জন্য পরিণত হয়েছে কান্নায়। ঈদযাত্রা কেন্দ্রিক ১২ দিনে সড়ক, নৌ ও রেলপথে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১২ জন, আহত হয়েছেন আরও ১,০৫৭ জন।
৩ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সারাদেশের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে ৩৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১০৭ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩৪.২৯ শতাংশ।
এছাড়া ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৮ জন আহত এবং ৩২টি রেল দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ৮৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪ জন। একক জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরে—২৭টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত। চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি হয়নি।
পরিবহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলে নিহত ১০৭ জন, থ্রি-হুইলারে ৭৩ জন, বাসে ৩৩ জন, ট্রাক ও পিকআপে ১৮ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ১১ জন, নসিমন-মাহিন্দ্র-টমটমে ২০ জন এবং বাইসাইকেলে ৬ জন আরোহী নিহত হন।
সড়ক অনুযায়ী দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে দেখা যায়—জাতীয় মহাসড়কে ১৩৬টি, আঞ্চলিক সড়কে ১২১টি, গ্রামীণ সড়কে ৩৪টি এবং শহরের ভেতর ৫৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে—নিয়ন্ত্রণ হারানোয় ১৬৩টি, মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮১টি, পথচারীকে ধাক্কায় ৪৬টি এবং পেছন থেকে ধাক্কায় ৫১টি দুর্ঘটনা।
এই বছরের ঈদযাত্রা শুধু আনন্দ নয়, হয়ে উঠেছে বহু পরিবারের জন্য শোকের কারণ। প্রত্যেক বছরের মতো এবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কী পদক্ষেপ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ?