খুলনায় ১৬ বছর বয়সী আরফানা হোসেন নির্জনার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তে নিজের মেয়েকে হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে গলিতে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে।
পুলিশের ভাষ্য, একাধিক ছেলের সঙ্গে নির্জনার সম্পর্কের বিষয় নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমীন সীমা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নির্জনার বাবা আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন।
শনিবার সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, নির্জনা সোনাডাঙ্গার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে নির্জনার সঙ্গে তার মায়ের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আরিফা ইয়াসমীন সীমা মেয়েকে চড়-থাপ্পড় দেন। পরে পাশের কক্ষ থেকে নির্জনার বাবা আলীম হোসেন আকাশ একটি কাঠের বাতা এনে আঘাত করেন। সেটি নির্জনার মাথায় লাগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
পরে ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করতে নির্জনার মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। এরপর খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি গলিতে মরদেহটি ফেলে রাখা হয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নির্জনার মা দাবি করেন, তার স্বামী কাঠের বাতা দিয়ে মেয়ের শরীরে আঘাত করতে চেয়েছিলেন। তবে সেটি দুর্ঘটনাবশত নির্জনার মাথায় লাগে।
হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নির্জনার বাবা ও মাকে আসামি করে মামলা করেছে। আরিফা ইয়াসমীন সীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আলীম হোসেন আকাশকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
গত ৮ জুলাই রাতে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় থাকা নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ।