উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
টাইমস অব ইসরায়েল ও আল জাজিরাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের দাবি, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বৈরুত হামলার জবাবে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
ইসরায়েলের স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই হামলা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, তা জানা না গেলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে।
পরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলো আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে স্কুলসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। এতে চার শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
একই দিনে দক্ষিণ লেবাননেও বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে লেবাননের সেনাবাহিনীর এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
উত্তর ইসরায়েলে হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপদেষ্টা মোহসিন রেজায়ি বলেন, “আমরা বার বার বলেছি যে লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং আগ্রাসন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান সহ্য করবে না। আজ রাতে আমরা আগ্রাসনকারীদের জবাব দিলোম।”
তিনি আরও বলেন, “তবে এটা শুধুমাত্র একটি সতর্কবার্তা। অশুভ শক্তি যদি এই সতর্কবার্তা আমলে না নেয়, পরবর্তী আঘাত হবে আরও ব্যাপক এবং এজন্য আগ্রাসনকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে।”
অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গিভর এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, “তেহরানকে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।”