২০১৯ সালের ইস্টার সানডের ভয়াবহ বোমা হামলা প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায়ে শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়সুন্দরাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ অপরাধমূলক অবহেলার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় ঘোষণা করেন।
তবে শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ কার্যকর রয়েছে। এ কারণে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপ নেয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকেও এই স্থগিতাদেশ বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে প্রায় একই সময়ে শ্রীলঙ্কার ৩টি গির্জা ও ৩টি বিলাসবহুল হোটেলে ধারাবাহিক বোমা হামলা হয়। এতে ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪২ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
হামলার পর গঠিত সংসদীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক সতর্কবার্তা আগেই পাওয়া গেলেও পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন। সেই ব্যর্থতার কারণেই জয়সুন্দরাকে অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে জয়সুন্দরার। একই অভিযোগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোর বিরুদ্ধেও পৃথক রায় দেওয়ার কথা রয়েছে।
২০১৯ সালের ওই হামলার জন্য শ্রীলঙ্কাভিত্তিক ২টি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল। হামলায় সরাসরি জড়িত হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের কেউ বর্তমানে জীবিত নেই। তবে হামলাকারীদের সহযোগিতার অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিচার চলছে।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চের দাবি, হামলার মূল হোতা হিসেবে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তারা প্রকৃত পরিকল্পনাকারী নন। তাদের মতে, এই হামলার পেছনে আরও বড় কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করেছে।