Skip to main content

Ridge Bangla

ইসরায়েলের লড বিমানবন্দর হামলার জাপানি অংশগ্রহণকারী কোজো ওকামাতোর মৃত্যু

১৯৭২ সালে ইসরায়েলের তৎকালীন লড বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলায় অংশ নেওয়া জাপানি নাগরিক কোজো ওকামাতো মারা গেছেন। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ৭৮ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি ওকামাতোকে ‘আহমাদ আল ইয়াবানি’ বা ‘জাপানি আহমাদ’ নামে উল্লেখ করে তাকে দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনের পক্ষে সংগ্রামে তিনি কয়েক দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

১৯৭২ সালে কমিউনিস্টপন্থী জাপানিজ রেড আর্মির সদস্য হিসেবে কোজো ওকামাতো তৎকালীন লড বিমানবন্দরে হামলায় অংশ নেন। বর্তমানে বিমানবন্দরটির নাম বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং ৭৬ জন আহত হন।

জাপানিজ রেড আর্মি ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি দীর্ঘ সময় লেবাননকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিমান ছিনতাই এবং বিদেশে একাধিক হামলার ঘটনার সঙ্গেও সংগঠনটির নাম জড়িয়েছে।

লড বিমানবন্দর হামলার দায়ে ওকামাতো ইসরায়েলে ১৩ বছর কারাভোগ করেন। পরে ১৯৮৫ সালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি সিরিয়া ও লিবিয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে লেবাননে আশ্রয় নেন।

লেবানন কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্রয় দেয় এই বিবেচনায় যে, তিনি ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরোধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলের কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখেন।

জাপানে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহযোগিতাও চেয়েছিল জাপান। তবে লেবাননে অবৈধভাবে প্রবেশ ও জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলার বিচার চলাকালে তিনি নিজেকে ‘আরব প্রতিরোধযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন।

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের একটি অংশ। সংগঠনটি আরব ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্টের একটি শাখা হিসেবে গড়ে ওঠে।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন