Skip to main content

Ridge Bangla

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ক্ষমতা গ্রহণের পর গাজায় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞাসহ আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বার্নহ্যামের এ অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠনগুলো। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টিও তার সমালোচনা করেছে। তবে লেবার পার্টির বামপন্থী সংসদ সদস্যরা তার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বার্নহ্যাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার গাজা সংকট যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি।

তিনি বলেন, “আমরা গাজা ইস্যুতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতেও আমরা অনেক দেরি করেছি।”

বার্নহ্যাম জানান, ক্ষমতা গ্রহণের পর তার সরকার গাজায় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।

তবে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে না বলে জানিয়েছেন বার্নহ্যাম। তিনি ন্যাটোর প্রতি অঙ্গীকার, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, ইউক্রেনকে সমর্থন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে বোর্ড অব ডেপুটিজ অব ব্রিটিশ জিউজ ও জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল এক যৌথ বিবৃতিতে বার্নহ্যামের বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে তার দলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বিবৃতিতে ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বার্নহ্যামের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাজার মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

তবে তাদের মতে, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনার আড়ালে অনেক সময় চরমপন্থী ইসলামপন্থী, অতি-বাম ও অতি-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায়। ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার ক্ষেত্রে এসব বিষয়কেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বার্নহ্যামের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেম প্রীতি প্যাটেল। তার অভিযোগ, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করছেন, তবে শেষ পর্যন্ত কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারবেন না।

তার ভাষায়, “একদিকে তিনি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথা বলছেন, অন্যদিকে নিজের দলের বামপন্থী অংশ ও ফিলিস্তিনপন্থী সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।”

কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েলের পার্লামেন্টারি চেয়ারম্যান গ্রেগ স্মিথও বার্নহ্যামের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে।

অন্যদিকে লেবার পার্টির বামপন্থী সংসদ সদস্যরা বার্নহ্যামের ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। সাবেক ছায়ামন্ত্রী ক্লাইভ লুইস এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের ওপর সম্পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

আরেক সাবেক ছায়ামন্ত্রী অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ড বার্নহ্যামের অবস্থানকে ‘সঠিক ও বড় পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

যুক্তরাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেমস মারেও স্বীকার করেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে ব্রিটিশ সরকার দেরি করেছিল।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, আমরা যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলাম, তা আরও অনেক আগেই জানানো উচিত ছিল।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ শান্তি দূত নিকোলাই ম্লাদেনভও বলেছেন, হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

উভয় পক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত ৯ মাসে গাজায় ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি এবং ৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বহু বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

এদিকে কিয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইতোমধ্যে ৩২২ জন লেবার সংসদ সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন। ফলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভোট ছাড়াই তিনি লেবার পার্টির নেতা এবং যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।

বার্নহ্যাম ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং গণপরিবহন, আবাসন ও প্রয়োজনীয় সেবায় স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে কর বৃদ্ধি অথবা সরকারি ঋণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা উড়িয়ে দেননি।

This post was viewed: 23

আরো পড়ুন