ইরানের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বড় সামরিক হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিলে যুক্তরাজ্যকেও হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেহরান এখনো তাদের কর্মকাণ্ডের যথেষ্ট মূল্য দেয়নি। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার কথা ভাবছি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছি আমি এবং এটার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”
ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য এ সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে তিনি অবগত। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও ঠিক করা হয়নি।
ইসরায়েলের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি বললে ইসরায়েল দুই মিনিটের মধ্যে যোগ দেবে, যদিও আমাদের কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই।” তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এ ধরনের অভিযানে ইসরায়েল অংশ নিলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার মুখেও পড়তে হতে পারে। তার দাবি, ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনা করতে আগ্রহ দেখালেও এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত নন।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, আইআরজিসি যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিগুলোকে হামলার হুমকি দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটিকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
আইআরজিসির দাবি, ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহার করে ‘বি-১ ল্যান্সার’ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। এছাড়া ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ছিল বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
বিবৃতিতে আইআরজিসি যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে বলেছে, দেশটি যেন তাদের ‘অপরাধের খাতা’ আর ভারী না করে।