Skip to main content

Ridge Bangla

ইরানের দাবি, পাল্টা হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তাদের সাম্প্রতিক অভিযানে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শনিবার (২৫ জুলাই) ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, মার্কিন হামলার জবাবে ‘অপারেশন নাসর-২’ নামে ১৫ দিনব্যাপী একটি পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে। তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোই ছিল এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।

মোহেবির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে অন্তত আটটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘাঁটির ২০টি হ্যাঙ্গার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আইআরজিসির মুখপাত্রের দাবি, হামলায় ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ৪টি ভারী সামরিক হেলিকপ্টার, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান, ১৭টি নজরদারি ও অভিযান পরিচালনাকারী চালকবিহীন উড়োজাহাজ এবং ৮টি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান ধ্বংস হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, হামলায় ৭টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ৬টি প্যাট্রিয়ট রাডার ইউনিট, ৮টি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ৭টি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র রাডার, ৫টি দূরপাল্লার রাডার স্থাপনা, ৫টি অবস্থান নির্ধারণ রাডার, ৩টি আকাশ ও সামুদ্রিক নজরদারি রাডার এবং ৩টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মোহেবির দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ঘাঁটির অবকাঠামোর মধ্যেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক ড্রোন ও যুদ্ধবিমান হ্যাঙ্গার, বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, ১৭টি অস্ত্রভাণ্ডার, ১২টি জ্বালানি ট্যাংক, একটি জ্বালানি ডক, একটি বিমানবাহী রণতরির জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম, ৪টি হাইমার্স রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, ৪টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ৬টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার, ৬টি বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, দুটি সিগন্যাল গোয়েন্দা যোগাযোগ কেন্দ্র, একটি তথ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্র, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, একটি তথ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি চালকবিহীন নৌযান সংরক্ষণাগার।

আইআরজিসির মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ‘অপারেশন নাসর-২’ চলাকালে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা আরও বেশি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত হতাহতের পরিসংখ্যানকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন।

একই সঙ্গে তিনি ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে হামলার শিকার মার্কিন ঘাঁটিগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই করা সম্ভব হয়।

তবে ইরানের এসব দাবি বা হতাহতের তথ্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন