জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিনকে গুলি করে সাঁজোয়া যান থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ গ্রহণ করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানি শেষে মামলার পলাতক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা ছয় আসামিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আগামী ২৫ আগস্ট তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। পরে প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার পর তিনি নিজেই বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আসহাবুল ইয়ামিনকে গুলি করে একটি সাঁজোয়া যান থেকে টেনেহিঁচড়ে সড়কে ফেলে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
প্রধান প্রসিকিউটরের ভাষ্য, ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়িয়ে দেয়।
তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনাল ঘটনার ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করেছেন। এরপর অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আগামী ২৫ আগস্ট মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ মামলার ১৯ আসামির মধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন ছয়জন এবং বাকি ১৩ জন পলাতক।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজামান এবং আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ।
এ ছাড়া সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান, মিজানুর রহমান জিএস মিজান এবং শরীফ আশরাফুল আলম বাবুলকেও এ মামলার আসামি করা হয়েছে।