বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হবে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ইনুর ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে সারা দেশে প্রায় ১৪ হাজার ছাত্র-জনতা শহীদ হন। ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল। সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির আওতায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেভাবে এই দায়টা আসে, ঠিক একই রকম দায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধেও বর্তায়। শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হলে ইনুর ১০ বছর হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ১০ জন সাক্ষী এবং অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর দাবি, ইনুর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। তবে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি এবং যে ৩টি অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছে, তা অপর্যাপ্ত। এ কারণে সাজা বৃদ্ধি এবং যেসব অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও নির্ধারিত সময়ে আপিল করা হবে।
রায়ের বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ধরনের অপরাধ সমাজে আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিলের পর ইনুর সাজা বৃদ্ধি পাবে।