জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেওয়া আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ ৩ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তাদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, কালাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্বাচনি এলাকার আওতাধীন আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলালে বিশেষ ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছিল। এই তিন উপজেলায় প্রতিদিন ২ টন চাল ও ২ টন আটা, অর্থাৎ ৪০ বস্তা আটা বরাদ্দ ছিল। একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা কেনার সুযোগ পেতেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪০ বস্তা আটা বরাদ্দ থাকলেও বিক্রয়কেন্দ্রে মাত্র ২০ বস্তা আটা রাখা হতো। বাকি ২০ বস্তার কোনো হিসাব পাওয়া যেত না। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা ছাড়াই ফিরে যেতেন। গত ২৭ জুলাই সকালে বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে স্থানীয়রা ৪০ বস্তার পরিবর্তে ২০ বস্তা আটা দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার বিষয়ে জানতে কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছেন। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলে মিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।” ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটা সরবরাহের দায়িত্বে থাকা সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলস প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী ৪০ বস্তা আটা সরবরাহ করেছে। মিলটির ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম জানান, সপ্তাহে ৫ দিন পরিচালিত এ কার্যক্রমের জন্য বিক্রির আগের দিন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আটা বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, কালাই উপজেলা সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন ৪০ বস্তা আটা বুঝে নিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন আহম্মেদকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ জানান, ভিডিওটি প্রকাশের পর ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ৩ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।