ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
বিবিসি, রয়টার্স ও আনাদুলু এজেন্সিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিস্তারিত শর্ত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এমন এক সময়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলো, যখন শুক্রবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ৩১ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় ৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
টানা সংঘাতের পর এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার আগেই ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় লেবাননকে লক্ষ্য করে কঠোর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেন ইসরায়েলের ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ফেলা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ইসরায়েলি মায়ের চোখের এক ফোঁটা অশ্রুর জন্য হাজারো লেবাননি মাকে কাঁদতে হবে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর বিস্ফোরক ডিভাইস হামলায় ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর এমন মন্তব্য করেন বেন গভির।
তিনি দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননে আরও বড় পরিসরে সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। এমনকি বৈরুতেও হামলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেও ইসরায়েলকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন এই মন্ত্রী।
এদিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এটি কঠিন সকাল। এখন আগুনের ভাষায় কথা বলার সময়, নরকের দরজা খুলে দেওয়ার সময়।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশে এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত দেননি।
যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এটি কতদিন কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।