Skip to main content

Ridge Bangla

‘অফ দ্য গ্রিড’ অপরাধ: প্রযুক্তিহীন নেটওয়ার্কে সক্রিয় চোরচক্র

দেশের বিভিন্ন জেলার সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে এখন প্রযুক্তির বাইরে গিয়ে অপরাধ সংগঠিত করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা গড়ে তুলেছে কথিত ‘প্রযুক্তিমুক্ত নেটওয়ার্ক’। এই নেটওয়ার্কে সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ হয় মুখে মুখে- কোনো প্রকার মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ছাড়াই।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মাদারীপুরের প্রায় ৩০ জন পেশাদার অপরাধী মিলে একটি ডাকাতচক্র গঠন করেছে। তারা রেকি ও অপারেশন দুই পর্যায়েই মোবাইল ও প্রযুক্তির ব্যবহার এড়িয়ে চলে। রেকি করা সদস্যরা টার্গেট স্থানে গিয়ে মৌখিকভাবে তথ্য দেয়। পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে চক্রের সদস্যরা মহাসড়কে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা থেকে এ ধরনের একটি আন্তজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তিতে ২০ সদস্যের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়া যায়, যারা ডাকাতির সময় মোবাইল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখে।

৮ অক্টোবর মৌচাকের ফরচুন শপিং মলের শম্পা জুয়েলার্স থেকে ৫০০ ভরি সোনা চুরির ঘটনায়ও দেখা গেছে একই কৌশল। চোরচক্রটি তিন মাস ধরে ৩১ বার দোকানটি রেকি করে। কিন্তু পুরোটা সময়ই তারা মোবাইলবিহীন যোগাযোগ করে। ওই চুরির পরে পাল্টা অভিযানে ১৯০ ভরি সোনা উদ্ধার এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

৫ অক্টোবর যাত্রাবাড়ীর ‘লিলি গোল্ড হাউজ’ থেকে ১২৫ ভরি সোনা চুরির ঘটনাতেও চোরেরা অপরাধের আগে মোবাইল বন্ধ রাখে। প্রধান অভিযুক্ত রাসেল মিয়া মোবাইল চালু করার পরই শনাক্ত হয়ে ধরা পড়েন।

তাই এখন এসব অপরাধচক্র সচেতনভাবে নিরাপদে চুরি করার পর সুকৌশলে বেরিয়ে যেতে কোনো প্রকার আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করছে না। যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে সৃষ্টি করছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

তবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধীরা প্রযুক্তি এড়িয়ে চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্লু উদ্ধার করে তাদের শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে। আগে মোবাইল না থাকলেও অপরাধীরা ধরা পড়ত, এখন সিসি ক্যামেরা ও ফরেনসিক তথ্যসহ নানা উপায়ে তদন্ত করা সম্ভব।

This post was viewed: 79

আরো পড়ুন