১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট রাতের বেলা; ক্যামেরুনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লেক নিয়োস ঘিরে থাকা গ্রামগুলোতে মানুষ যখন ঘুমাতে যাচ্ছিল, তখন হ্রদটিকে দেখে বিপদের কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। চারদিকে সবুজ পাহাড়, কৃষিজমি আর গবাদিপশুর চারণভূমির মাঝখানে শান্ত একটি আগ্নেয় হ্রদ। আগুন নেই, লাভা নেই, আকাশে ছাইয়ের মেঘও নেই।
রাত বাড়ার পর হ্রদের দিক থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা গেল। কারও মনে হলো বিস্ফোরণ হয়েছে, কেউ অনুভব করলেন বাড়ি কেঁপে উঠছে। তারপর এমন কিছু ঘটল, যা আশপাশের অধিকাংশ মানুষ দেখতেও পেলেন না।
লেক নিয়োস থেকে বেরিয়ে এল বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড! বর্ণহীন এই গ্যাস পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচের গ্রামগুলোর দিকে নেমে গেল। যেখানে পৌঁছাল, বাতাসের অক্সিজেন সরিয়ে সেখানে তৈরি করল দমবন্ধ করা এক পরিবেশ। মানুষ, গরু, ছাগল, পাখি- একে একে সব প্রাণীই অচেতন হয়ে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো জনপদ প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে গেল!
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পরবর্তী সময়ে হিসাব করে দেখা যায়, সেই রাতে অন্তত ১,৭৪৬ জন মানুষ এবং ৩ হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গিয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পশুর মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৩,৫০০ পর্যন্ত বলা হয়েছে। ঘটনাটি এখন পরিচিত ‘লেক নিয়োস ডিজাস্টার’ নামে। পৃথিবীতে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গমনের ঘটনাগুলোর একটি এটি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো- একটি হ্রদ কীভাবে প্রায় দুই হাজার মানুষকে হত্যা করতে পারে?
যে সকালে কেউ বুঝতেই পারছিল না কী হয়েছে
বিপর্যয়ের পরের মুহূর্ত ছিল আরও বিভ্রান্তিকর। সব বাড়িঘর অক্ষত। গাছপালা দাঁড়িয়ে আছে। কোথাও আগুনের চিহ্ন নেই। অথচ ঘরের ভেতর, রাস্তার পাশে কিংবা উঠানে পড়ে আছে মানুষের মৃতদেহ। চারপাশে ছড়িয়ে আছে গরু ও অন্যান্য প্রাণীর মরদেহ।
বিস্ফোরণ হলে বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার কথা। বিষাক্ত আগ্নেয় ছাই হলে গাছপালায় তার চিহ্ন থাকার কথা। কিন্তু নিয়োসে যেন মৃত্যু এসেছে, অথচ ধ্বংসের দৃশ্য রেখে যায়নি!
চার দশক পরও সেই রাতের স্মৃতি বহন করছেন বেঁচে যাওয়া মানুষরা। ২০২৬ সালে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলা কুম স্যামুয়েলের বয়স তখন ছিল ১৭ বছর। নিজের গ্রামে ফিরে তিনি বাবা-মাসহ মৃত মানুষ ও প্রাণীদের পড়ে থাকতে দেখেন। আর এনডং ফ্রেডেরিক বাহ জানান, রাতে তাদের পরিবারের নয়জন ঘুমাতে গিয়েছিলেন। পরদিন জীবিত ছিলেন শুধু তিনি!

আরেক জীবিত প্রত্যক্ষদর্শী সাং এমেলদা নজা তখন মাত্র পাঁচ বছরের শিশু। তিনি স্মরণ করেছেন, তাদের বাড়িটি জোরে কেঁপে উঠেছিল! পরিবারের লোকজন প্রথমে ভেবেছিলেন- বাড়িটিই বুঝি ভেঙে পড়তে যাচ্ছে।
প্রথমদিকে কী ঘটেছে তা নিয়ে বিভ্রান্তি হওয়াই স্বাভাবিক ছিল। আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ? বিষাক্ত গ্যাস? ভূমিকম্প? কোনো অজানা রাসায়নিক পদার্থ? কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞানীরা বেশ অদ্ভুত ফলাফল পেতে শুরু করলেন- ঘাতক ছিল মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইড!
পানির নিচে ছিল বিশাল এক ‘গ্যাসের বোতল’
লেক নিয়োস ক্যামেরুনের পুরনো আগ্নেয়গিরির গর্তে তৈরি গভীর একটি হ্রদ। ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, যে বিস্ফোরণধর্মী আগ্নেয় ক্রেটারে হ্রদটি তৈরি হয়েছে, সেটি ভূতাত্ত্বিক হিসেবে বেশ নতুন। এর নিচের ভূগর্ভস্থ আগ্নেয় ব্যবস্থার সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইডের উৎসের সম্পর্ক রয়েছে। আইসোটোপ ও রাসায়নিক বিশ্লেষণেও গ্যাসটির গভীর ম্যাগম্যাটিক উৎসের পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
ভূগর্ভ থেকে ধীরে ধীরে কার্বন ডাই-অক্সাইড হ্রদের তলদেশের পানিতে প্রবেশ করত। লেক নিয়োস প্রায় ২০০ মিটারেরও বেশি গভীর। এত নিচে পানির প্রচণ্ড চাপের কারণে গ্যাস সহজে বুদবুদ তৈরি করে উপরে উঠতে পারত না। বরং পানির মধ্যেই দ্রবীভূত হয়ে থাকত। ব্যাপারটি সবচেয়ে সহজভাবে বুঝতে একটি বন্ধ সোডার বোতলের কথা ভাবতে পারেন। বোতলের ভেতর উচ্চচাপে কার্বন ডাই-অক্সাইড তরলের মধ্যে মিশে থাকে। ক্যাপ খুলে চাপ কমিয়ে দিলে গ্যাস বুদবুদ হিসেবে বেরিয়ে আসে। লেক নিয়োস ছিল এরই এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক সংস্করণ!

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। সাধারণ হ্রদে ওপরের ঠান্ডা পানি ও নিচের পানি বিভিন্ন সময়ে মিশে যায়। নিয়োসের গভীর পানির স্তর দীর্ঘ সময় তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকত। ফলে নিচে কার্বন ডাই-অক্সাইড জমতে জমতে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছিল। বিজ্ঞানীরা এই ধরনের স্থায়ী স্তরবিন্যাসকে ‘মেরোমিক্সিস’ বলেন। বছরের পর বছর ধরে তাই বাইরে থেকে শান্ত দেখালেও হ্রদের গভীরে তৈরি হচ্ছিল চাপযুক্ত একটি বিশাল গ্যাসভান্ডার।
১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট ঠিক কোন ঘটনা প্রথমে নিয়োসের স্থিতিশীল পানির স্তরকে নড়বড়ে করে দিয়েছিল, তা আজও শতভাগ নিশ্চিত না। বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ভূমিধস, প্রবল বাতাস বা বৃষ্টির কারণে পানির স্তরের অস্থিতিশীলতা এবং হ্রদের ভেতর থেকেই স্বতঃস্ফূর্ত অস্থিরতা তৈরির মতো কয়েকটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপের আলোচনাতেও বড় ধরনের ভূমিধসকে সম্ভাব্য ট্রিগার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট কারণকে চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
কিন্তু একবার গভীরের কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ পানি ওপরের দিকে উঠতে শুরু করলে পরের অংশটি ব্যাখ্যা করা তুলনামূলক সহজ। পানি যত ওপরে উঠেছে, চাপ তত কমেছে। চাপ কমতেই দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড বুদবুদ হয়ে বের হতে শুরু করেছে। বুদবুদ তৈরি হওয়ায় পানি আরও হালকা হয়ে দ্রুত ওপরে উঠেছে। আর যত দ্রুত পানি ওপরে উঠেছে, তত বেশি গ্যাস বের হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই বিরল ঘটনাকে বলেন লিমনিক ইরাপশন বা হ্রদের গভীরে জমে থাকা দ্রবীভূত গ্যাসের আকস্মিক ব্যাপক নির্গমন।
১৯৮৭ সালে প্রকাশিত তদন্তে ভূতাত্ত্বিক, রাসায়নিক, আইসোটোপ ও চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণ বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, বিপর্যয়ের সময় সরাসরি কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্ন্যুৎপাত ঘটেনি। হ্রদের পানিতে আগে থেকেই সঞ্চিত কার্বন ডাই-অক্সাইডই ছিল মূল ঘাতক।
গ্যাসটি কেন এত দ্রুত মানুষ মারল?
কার্বন ডাই-অক্সাইড স্বাভাবিক মাত্রায় আমাদের চারপাশের বাতাসেও আছে। কিন্তু উচ্চ ঘনত্বে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। গ্যাসটি বাতাসের তুলনায় ভারী। নিয়োস থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস বের হওয়ার পর সেটি তাই দ্রুত ভূমির কাছাকাছি অবস্থান করে পাহাড়ি উপত্যকা ধরে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়েছিল। ঘন গ্যাসের মেঘ আশপাশের বাতাস সরিয়ে দেওয়ায় সেই অঞ্চলে শ্বাস নেওয়ার মতো অক্সিজেন মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল।
যারা উচ্চমাত্রার গ্যাসের মধ্যে পড়েছিলেন, তাদের অনেকেই দ্রুত অচেতন হয়ে যান। মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল শ্বাসরোধ। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক তদন্তেও ভুক্তভোগীদের দ্রুত অচেতন হয়ে পড়া এবং অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। এ কারণেই এত মানুষ ঘুমের মধ্যে মারা যান। গ্যাসটি নিচু ভূমি ও উপত্যকা অনুসরণ করায় সেখানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছিল।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, নিয়োস বিপর্যয়ের দুই বছর আগেই ক্যামেরুনে প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।
১৯৮৪ সালের ১৫ আগস্ট, নিয়োস থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে লেক মোনাউন থেকে আকস্মিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়। বিজ্ঞানীরা তখনও ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধান করছিলেন। তার মধ্যেই ১৯৮৬ সালে অনেক বড় পরিসরে একই বিপর্যয় ঘটল নিয়োসে।
‘খুনি হ্রদ’কে নিরাপদ করার অভিযান
বিপর্যয়ের পর বিজ্ঞানীরা এক নতুন সমস্যার মুখোমুখি হলেন। ১৯৮৬ সালের ঘটনায় হ্রদের সব কার্বন ডাই-অক্সাইড বেরিয়ে যায়নি। বরং ভূগর্ভ থেকে নতুন গ্যাস আবারও গভীর পানিতে প্রবেশ করতে থাকে। ১৯৯০-এর দশকে পরিমাপ করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, কার্বন ডাই-অক্সাইড আবার বিপজ্জনক মাত্রার দিকে বাড়ছে। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের পর্যবেক্ষণে গভীর অংশে বছরে প্রায় ১২৫ মেগামোল হারে কার্বন ডাই-অক্সাইড সঞ্চিত হবার হিসাব পাওয়া যায়।
সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু হলো। পরিকল্পনা হলো- হ্রদের তলদেশ থেকে একটি লম্বা পাইপ ওপর পর্যন্ত বসানো হবে। শুরুতে পাম্প দিয়ে গ্যাসসমৃদ্ধ পানি ওপরে তোলা হবে। পানি ওপরে আসার সঙ্গে চাপ কমবে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হতে শুরু করবে। গ্যাসের বুদবুদ পানিকে আরও ওপরে ঠেলে তুলবে। একবার প্রবাহ শুরু হলে পুরো ব্যবস্থাটি অনেকটা নিজে থেকেই চলতে পারে।

২০০১ সালে লেক নিয়োসে পূর্ণমাত্রার ডিগ্যাসিং শুরু হয়। ২০৩ মিটার গভীর পর্যন্ত নামানো প্রথম পাইপ থেকে প্রায় ৫০ মিটার উঁচু পানি ও গ্যাসের ফোয়ারা উঠেছিল। পরে ২০১১ সালে আরও দুটি বড় পাইপ যোগ করা হয়।
কাজটি ফলও দিয়েছে। কয়েক দশকের নিয়ন্ত্রিত ডিগ্যাসিংয়ের পর হ্রদের গভীরে জমে থাকা বিপজ্জনক গ্যাসের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে প্রাকৃতিকভাবে যত কার্বন ডাই-অক্সাইড নতুন করে যোগ হচ্ছে, একটি কার্যকর পাইপ দিয়েই প্রায় সেই পরিমাণ গ্যাস বের করে ভারসাম্য ধরে রাখা সম্ভব।
২০২৬ সালে ক্যামেরুনের ইয়াউন্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ আইজ্যাক কনফোর এনজিলা ডয়চে ভেলেকে বলেন, বর্তমানে হ্রদে ১৯৮৬ সালের মতো বিপর্যয় ঘটানোর মতো পরিমাণ দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড আর নেই, এবং বৈজ্ঞানিক বিচারে এলাকাটিকে অনেক নিরাপদ মনে করা হচ্ছে।
চার দশক পরও যায়নি যে ভয়
বিপর্যয়ের পর বহু মানুষকে তাদের গ্রাম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অথচ লেক নিয়োসের আশপাশের মাটি উর্বর। কৃষি ও পশুপালনের জন্য এই অঞ্চলের গুরুত্ব অনেক। ফলে বছরের পর বছর ধরে মানুষের ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও রয়ে গেছে।
এর মধ্যে নতুন সমস্যাও তৈরি হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ক্যামেরুনের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলা সশস্ত্র সংঘাতের কারণে লেক নিয়োস এলাকার পুনর্বাসন, উন্নয়ন ও বৈজ্ঞানিক কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ডয়চে ভেলে প্রতিবেদনে স্থানীয় গবেষকেরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক কাজ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আর বেঁচে যাওয়া মানুষের মনে রয়ে গেছে অন্য ধরনের সংশয়।
পাঁচ বছরের শিশু হিসেবে বিপর্যয় থেকে বেঁচে যাওয়া সাং এমেলদা নজা চার দশক পরও বলেছেন, তিনি লেক নিয়োসের খুব কাছে যেতে ভয় পান। বিজ্ঞানীরা হয়তো বলবেন বিপদ এখন নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু যে হ্রদের পাশে এক রাতে প্রায় পুরো জনপদ নিঃশেষ হয়ে যেতে দেখেছে একটি প্রজন্ম, তাদের কাছে সেই ভয় শুধু বিজ্ঞানীদের নিশ্চয়তা দিয়ে দূর করা সম্ভব না।
ফিচার ইমেজ: BBC
রেফারেন্স
- 40 years after the Lake Nyos disaster in Cameroon – August 21, 2026 – Deutsche Welle
- Cameroon’s Lake Nyos Gas Burst: 30 Years Later – July 12, 2016 – Eos / American Geophysical Union
- The 1986 Lake Nyos gas disaster in Cameroon, West Africa – April 10, 1987 – Science
- A trigger mechanism for the Lake Nyos disaster – March 1999 – Journal of Volcanology and Geothermal Research
- Gas cloud kills Cameroon villagers – November 13, 2009, updated May 27, 2025 – HISTORY
- Degassing Lakes Nyos and Monoun: defusing certain disaster – September 2005 – Proceedings of the National Academy of Sciences
- Final step of the 32-year Lake Nyos degassing adventure: Natural CO2 recharge is to be balanced by discharge through the degassing pipes – July 2020 – Journal of African Earth Sciences