১৮৮৮ সালের ৩১ আগস্ট, ভোরবেলা। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। বাকস রো নামের সরু রাস্তা দিয়ে কাজে যাচ্ছিলেন চার্লস ক্রস। অন্ধকারে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি অবয়ব দেখে প্রথমে তার মনে হয়েছিল, হয়তো কোনো ত্রিপল বা কাপড়ের স্তূপ। কাছে গিয়ে বোঝা গেল, সেখানে পড়ে আছেন এক নারী!
তার নাম মেরি অ্যান নিকোলস, পরিচিতজনরা তাকে পলি নামেই ডাকে। বয়স ৪৩ বছর। তার গলায় গভীর ক্ষত, শরীরেও ছুরির আঘাত। খবর ছড়িয়ে পড়ল দ্রুত। কিন্তু তখনও লন্ডনের কেউ জানত না, এই হত্যাকাণ্ড এমন এক রহস্যের সূচনা করতে যাচ্ছে, যা প্রায় দেড় শতাব্দী পরও বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত অমীমাংসিত অপরাধগুলোর একটি হয়ে থাকবে!
এরপর মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পূর্ব লন্ডনের একই এলাকায় আরও নারী খুন হলেন। হত্যার ধরনে মিল ছিল, ছিল ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা। পুলিশ রাস্তায় নামল, গোয়েন্দারা ছুটলেন এক সূত্র থেকে আরেক সূত্রে, সংবাদপত্রে প্রতিদিন ছাপা হতে লাগল নতুন তত্ত্ব। আতঙ্ক এমন জায়গায় পৌঁছাল যে সন্ধ্যার পর হোয়াইটচ্যাপেলের রাস্তায় একা বের হওয়ার আগে মানুষ দ্বিতীয়বার ভাবতে শুরু করল।
অথচ যার জন্য এত আয়োজন, তার প্রকৃত নাম জানা যায়নি কখনো। ইতিহাস তাকে মনে রেখেছে একটি নামেই- জ্যাক দ্য রিপার…
যে লন্ডনের কথা কোনো ছবিতে দেখা যায় না
আজকের লন্ডনের সঙ্গে ১৮৮৮ সালের হোয়াইটচ্যাপেলকে মেলানো কঠিন। তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শক্তির শীর্ষে। রাজধানীর পশ্চিমাংশে সম্পদ, রাজনীতি ও অভিজাত জীবনের চাকচিক্য ছিল চোখ ধাঁধানো। কিন্তু কয়েক মাইল দূরের ইস্ট এন্ডে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা।

হোয়াইটচ্যাপেল ও আশপাশের এলাকায় অসংখ্য শ্রমজীবী পরিবার গাদাগাদি করে বাস করত। বাড়িগুলো ছিল স্যাঁতসেঁতে, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল দুর্বল। একটি ঘরে পুরো পরিবার থাকার ঘটনাও অস্বাভাবিক ছিল না। অদক্ষ শ্রমিকদের কাজ ছিল অনিশ্চিত, মজুরি সামান্য। একদিন কাজ হারানো মানে পরদিন রাতের থাকার জায়গাও নেই হয়ে যেতে পারত। লন্ডন মিউজিয়ামের বিবরণেও তৎকালীন হোয়াইটচ্যাপেলের এই চরম দারিদ্র্য ও জনাকীর্ণতার চিত্র উঠে এসেছে।
এখানেই ছিল অসংখ্য ‘কমন লজিং হাউস’, যেখানে কয়েক পেনি দিয়ে এক রাতের বিছানা পাওয়া যেত। টাকা না থাকলে রাস্তা, সিঁড়িঘর কিংবা অন্য কোনো আশ্রয় খুঁজতে হতো। এই সামাজিক বাস্তবতা না বুঝলে জ্যাক দ্য রিপারের শিকার নারীদের জীবনও বোঝা যাবে না।
দীর্ঘদিন ধরে বলা হয়েছে, রিপারের পাঁচ পরিচিত শিকারই যৌনকর্মী ছিলেন। আধুনিক গবেষণায় এই ধারণা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাদের কেউ গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন, কেউ স্বামীর সঙ্গে ব্যবসা চালিয়েছেন, কেউ জীবনের কোনো পর্যায়ে যৌনকর্মে যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু পাঁচজনকে এক পরিচয়ে বেঁধে ফেলা ইতিহাসের বাস্তবতাকে বিকৃত করে। লন্ডন মিউজিয়ামও এখন স্পষ্টভাবে বলছে, পুলিশ ও সংবাদপত্রের প্রচলিত এই শ্রেণিবিন্যাস যথার্থ ছিল না।
নয় সপ্তাহে পাঁচ হত্যা
মেরি অ্যান নিকোলসের মৃত্যুর মাত্র আট দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর সকালে, ২৯ হ্যানবুরি স্ট্রিটের পেছনের উঠানে পাওয়া গেল অ্যানি চ্যাপম্যানের মৃতদেহ। বয়স ৪৭। তার গলা কাটা হয়েছিল, পেটেও ভয়াবহ ক্ষত ছিল।
দ্বিতীয় হত্যার পর পুলিশের সামনে আর ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ থাকল না। তারপর প্রায় তিন সপ্তাহ কোনো হত্যা হলো না। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বরের রাত পরিস্থিতি বদলে দিল।

সেদিন প্রথমে বার্নার স্ট্রিটের ডাটফিল্ডস ইয়ার্ডে পাওয়া যায় সুইডেনে জন্ম নেওয়া এলিজাবেথ স্ট্রাইডের দেহ। তার গলা কাটা ছিল, কিন্তু অন্য কয়েকটি হত্যার মতো শরীর বিকৃত করা হয়নি। তাই আজও বিতর্ক রয়েছে, স্ট্রাইড সত্যিই একই আততায়ীর শিকার ছিলেন কি না। একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো, হত্যাকারী হয়তো বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কিন্তু এর পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
ঘণ্টাখানেকও পার হয়নি। কাছাকাছি সিটি অব লন্ডনের মাইটার স্কয়ারে পাওয়া গেল ক্যাথরিন এডোয়েসকে। তার শরীরে আগের হত্যাগুলোর সঙ্গে মিল রেখে গুরুতর আঘাত করা হয়েছিল। এক রাতে দুই হত্যা। সংবাদপত্র পরে একে ‘ডাবল ইভেন্ট’ নামে পরিচিত করে তোলে। হোয়াইটচ্যাপেলে আতঙ্ক তখন চরমে। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা তখনও বাকি ছিল।
৯ নভেম্বর সকালে মিলারস কোর্টের একটি ছোট ঘরে পাওয়া গেল তরুণী মেরি জেন কেলির মৃতদেহ। আগের ঘটনাগুলো ঘটেছিল বাইরে, তুলনামূলক দ্রুত। কেলিকে হত্যা করা হয়েছিল তার নিজের ঘরে। ফলে হত্যাকারী সময় পেয়েছিল। মেরির ওপর চালানো সহিংসতার মাত্রাও আগের সব ঘটনার চেয়ে ভয়াবহ ছিল।
এই পাঁচজনই পরে ‘ক্যানোনিক্যাল ফাইভ’ নামে পরিচিত হন। পুলিশি তদন্তে আরও কয়েকটি হত্যাকে হোয়াইটচ্যাপেল মার্ডার্সের অংশ হিসেবে দেখা হয়েছিল, তবে কোনগুলো একই খুনির কাজ, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। পাঁচটি হত্যার ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য পাওয়া যায়। আর তারপর, যেভাবে হঠাৎ করে শুরু হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই রহস্যজনকভাবে হত্যার এই ধারা থেমে গেল।
খুনির নামই জানা যায়নি…
হত্যাকারীর কোনো পরিচয় না থাকায় প্রথমদিকে সংবাদপত্র তাকে ‘হোয়াইটচ্যাপেল মার্ডারার’ বা ‘লেদার অ্যাপ্রন’সহ বিভিন্ন নামে ডাকছিল। পরিস্থিতি পাল্টে যায় ১৮৮৮ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে একটি চিঠি পৌঁছায়। চিঠির লেখক দাবি করেন, তিনিই হত্যাকারী। শেষে তিনি স্বাক্ষর করেন- Jack the Ripper।

চিঠিটি ‘ডিয়ার বস’ লেটার নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এরপর আসে ‘সসি জ্যাকি’ পোস্টকার্ড। পরে হোয়াইটচ্যাপেল ভিজিল্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান জর্জ লাস্কের কাছে পাঠানো হয় আরেকটি অদ্ভুত চিঠি, যা ‘ফ্রম হেল’ নামে বিখ্যাত। সমস্যা হলো, এসবের কোনোটিই খুনি লিখেছিলেন কি না, তার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
খুনের সময় পুলিশ ও সংবাদপত্রের কাছে বিপুল সংখ্যক চিঠি আসে। কেউ সূত্র দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, আবার অনেকে খুনি সেজে চিঠি লিখছিলেন। ন্যাশনাল আর্কাইভস বলছে, সংরক্ষিত চিঠিগুলোর কোনোটি প্রকৃত হত্যাকারীর লেখা বলে শক্ত প্রমাণ নেই। অনেক চিঠিই ছিল ভুয়া। ফলে ইতিহাসের এক অদ্ভুত পরিহাস হলো, বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সিরিয়াল কিলারদের একজনের নামটি একটি সম্ভবত সংবাদমাধ্যম ও প্রতারকদের তৈরি!
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এত বড় তদন্তেও ব্যর্থ হলো কেন?
১৮৮৮ সালের পুলিশকে আজকের পুলিশের সঙ্গে তুলনা করলে তাদের সীমাবদ্ধতা সহজেই বোঝা যায়।
অপরাধীর আঙুলের ছাপ নিয়ে ডেটাবেজে মিলিয়ে দেখার সুযোগ ছিল না। মেট্রোপলিটন পুলিশের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরোই প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০১ সালে, রিপার হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পর।
ডিএনএ টেস্টের কথা তখন কারও চিন্তাতেও ছিল না। আধুনিক ক্রাইম সিন প্রসেসিং, অপরাধস্থল থেকে সূক্ষ্ম জৈব নমুনা সংগ্রহ, ডিজিটাল নজরদারি কিংবা কম্পিউটার ডেটাবেজের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, মৃতদেহ পরীক্ষা, স্থানীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও সন্দেহভাজনদের গতিবিধিই ছিল তদন্তের প্রধান হাতিয়ার।
তার ওপর খুনগুলো ঘটছিল রাতের অন্ধকারে এমন একটি এলাকায়, যেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করত। হত্যাকারী স্থানীয় হলে ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়া ছিল তুলনামূলক সহজ।
পুলিশের ওপর চাপও বাড়ছিল দ্রুত। Punch ম্যাগাজিন ১৮৮৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ‘Blind Man’s Bluff’ শিরোনামে একটি কার্টুন ছাপে, যেখানে চোখ বাঁধা পুলিশকে অপরাধী ধরার চেষ্টা করতে দেখা যায়। সেটা শুধু ব্যঙ্গই ছিল না, বরং পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে তৎকালীন জনঅসন্তোষের প্রতিচ্ছবিও বটে।

এদিকে পূর্ব ইউরোপ থেকে আসা ইহুদি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সন্দেহও ছড়িয়ে পড়ছিল। হোয়াইটচ্যাপেলে তখন বহু ইহুদি শরণার্থী বসবাস করতেন। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম নিয়ে আগে থেকেই স্থানীয় সমাজের একাংশে বিরূপ মনোভাব ছিল। হত্যাকাণ্ড সেই বিদ্বেষ আরও উসকে দেয়, যদিও খুনি ইহুদি ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ ছিল না।
তাহলে সন্দেহভাজন কে?
জ্যাক দ্য রিপারকে নিয়ে পরবর্তী এক শতাব্দীরও বেশি সময়ে এত মানুষের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে যে তাদের তালিকাই আলাদা বইয়ের বিষয় হতে পারে। চিকিৎসক, কসাই, নাবিক, অভিজাত, শিল্পী, এমনকি রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকেও সন্দেহভাজন বানানো হয়েছে। তবে সমসাময়িক পুলিশি আলোচনায় কয়েকটি নাম তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ।
স্কটিশ ব্যারিস্টার মন্টেগু জন ড্রুইটের নাম এসেছে। ১৮৮৮ সালের ডিসেম্বরে তার মরদেহ টেমস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ড থেমে যাওয়ার সময়ের সঙ্গে তার মৃত্যুর সময় কাছাকাছি হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তাকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
আরেকজন ছিলেন রুশ বংশোদ্ভূত অপরাধী মাইকেল অস্ট্রগ। সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামটি সম্ভবত অ্যারন কসমিনস্কি। তিনি ছিলেন পোলিশ ইহুদি অভিবাসী, থাকতেন হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায়। পরে তাকে মানসিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার পরবর্তী নথিতে ‘কসমিনস্কি’ নামটি সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে আসে। তারপরও বলতেই হয়- কেউই নিশ্চিত খুনি ছিল না, কেবলই ‘সন্দেহের তালিকা’য় এসেছিল নামগুলো।
ডিএনএ কি কসমিনস্কিকে ধরিয়ে দিয়েছে?
নিহত ক্যাথরিন এডোয়েসের হত্যাস্থল থেকে একটি শাল সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। গবেষক জারি লৌহেলাইনেন ও ডেভিড মিলার শালটির দাগ থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএর ভিত্তিতে এডোয়েস ও অ্যারন কসমিনস্কির বংশধরদের সঙ্গে সংযোগ পাওয়ার দাবি করেন। গবেষণাটি ২০১৯ সালে অনলাইনে এবং ২০২০ সালে Journal of Forensic Sciences-এ প্রকাশিত হয়।
এরপর বিশ্বের নানা সংবাদমাধ্যমে জ্যাক দ্য রিপারের পরিচয় নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা মিশ্রিত খবর প্রকাশিত হয়।
প্রথম সমস্যা হলো শালটির অতীত। সেটি কি সত্যিই ১৮৮৮ সালে এডোয়েসের মৃতদেহের পাশে ছিল কি না এবং এরপর দূষণমুক্তভাবে সংরক্ষিত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন আছে। দ্বিতীয়ত, মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ এক ব্যক্তিকে সন্দেহাতীতভাবে শনাক্ত করার জন্য নিউক্লিয়ার ডিএনএর মতো শক্তিশালী নয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালে। Journal of Forensic Sciences গবেষণাটির ওপর আনুষ্ঠানিক সন্দেহ প্রকাশ করে। গবেষণাটির ডিএনএ বিশ্লেষণ ও উপস্থাপিত ফল নিয়ে তোলা কিছু প্রশ্ন যাচাই করতে মূল ডেটা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় ডেটা পাওয়া যায়নি বলে জার্নালটি জানায়। ২০২৫ সালে গবেষণাটির একটি সংশোধনীও প্রকাশিত হয়। তাই ‘ডিএনএ পরীক্ষায় জ্যাক দ্য রিপারের পরিচয় নিশ্চিত’ হয়েছে এমনটা বলার উপায় নেই।
খুনির চেয়ে বড় হয়ে ওঠা রহস্য
জ্যাক দ্য রিপারের হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে অদ্ভুত দিক সম্ভবত তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। মাত্র কয়েক মাস সক্রিয় থাকা একজন অজ্ঞাত অপরাধীকে নিয়ে হাজারো বই, প্রবন্ধ, চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র ও গবেষণা হয়েছে। ‘রিপারোলজি’ নামে আলাদা গবেষণা সংস্কৃতিই তৈরি হয়েছে! প্রত্যেক প্রজন্ম নতুন কোনো সন্দেহভাজন হাজির করেছে। কেউ পুরনো পুলিশি নথি পড়েছেন, কেউ হাতের লেখা মিলিয়েছেন, কেউ ডিএনএ ব্যবহার করেছেন।
কিন্তু এই বিপুল আগ্রহের মাঝেও দীর্ঘদিন আড়ালে থেকে গেছেন পাঁচজন মানুষ, যাদের মৃত্যু ছাড়া ‘জ্যাক দ্য রিপার’ নামে কোনো কিংবদন্তিই তৈরি হতো না। পলি নিকোলস, অ্যানি চ্যাপম্যান, এলিজাবেথ স্ট্রাইড, ক্যাথরিন এডোয়েস এবং মেরি জেন কেলি ছিলেন ভিক্টোরিয়ান সমাজের প্রান্তিক ক’জন নারী। পরিবার, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, কাজ হারানো, দারিদ্র্য এবং টিকে থাকার সংগ্রাম- সবই ছিল তাদের জীবনে। আধুনিক ইতিহাসবিদরা তাই এখন খুনির পরিচয় খোঁজার পাশাপাশি তাদের জীবনকেও সামনে আনার চেষ্টা করছেন।
হয়তো জ্যাক দ্য রিপার মারা গিয়েছেন ১৮৮৮ সালের শেষেই। হয়তো তিনি অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন। হয়তো মানসিক হাসপাতালে বা কারাগারে ঢুকেছেন। এমনও হতে পারে, ‘ক্যানোনিক্যাল ফাইভ’ বলে আমরা যেসব হত্যাকে একই সুতোয় গেঁথেছি, তার সবগুলো একই ব্যক্তি করেননি! এসবের কোনো উত্তরই এখন আর নিশ্চিতভাবে দেওয়ার উপায় নেই! ফলে জ্যাক দ্য রিপারের কিংবদন্তিও যে আরও দীর্ঘকাল টিকে থাকবে, তাতেও কোনো সন্দেহ নেই।
ফিচার ইমেজ: Golden Tours
তথ্যসূত্র
- Jack the Ripper – London Museum
- Hoax letter signed by ‘Jack the Ripper’ – 9 October 1888 record – The National Archives
- Forensic Investigation of a Shawl Linked to the “Jack the Ripper” Murders – 12 March 2019 – Journal of Forensic Sciences / PubMed
- EXPRESSION OF CONCERN: Forensic Investigation of a Shawl Linked to the “Jack the Ripper” Murders – 12 August 2024 – Journal of Forensic Sciences / PubMed
- Correction to: Forensic Investigation of a Shawl Linked to the “Jack the Ripper” Murders – 4 April 2025 – Journal of Forensic Sciences / PubMed