বরগুনার বেতাগী পৌরশহরে সরকারি জমি দখল করে টিনশেড দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর প্রশাসন অভিযান চালিয়ে নির্মিত দুটি দোকান উচ্ছেদ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে বেতাগী পৌরবাজার এলাকায় দোকান নির্মাণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানঘর দুটি উচ্ছেদ করেন। এ সময় দুই নির্মাণশ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রশাসন সূত্র জানায়, বেতাগী পৌরশহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফলপট্রি এলাকায় খাস খতিয়ানের সরকারি জমিতে দুটি টিনশেড দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। অভিযানের সময় জামাল ও রুবেল নামে দুই নির্মাণশ্রমিককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীন মল্লিক বলেন, সরকারি এই জমি ইজারা নিয়ে খোরসেদ আলী মল্লিক ও মতি সিকদার আগে ব্যবসা করেছেন। পরে দীর্ঘদিন জমিটি খালি পড়ে ছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সুযোগে বিএনপি নেতা নেছার খান অবৈধভাবে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। তার দাবি, বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন এবং তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে।
বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহ জাহান কবির বলেন, যারা রাতের আঁধারে দখলবাজি করে, তারা বিএনপির কেউ হতে পারে না। এদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি আরও বলেন, মাননীয় চীফ হুইপ মহোদয়ের নির্দেশে অবৈধভাবে নির্মিত ঘরটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আটক দুই শ্রমিকের মাধ্যমে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে মো. নেছার খান দোকানঘর দুটি নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি জমি তো বটেই, পৌরসভার মধ্যে নিজস্ব জমিতে ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাই দোকানঘরগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।