শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে লেখা এক মতামতধর্মী নিবন্ধকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। পরে জানা যায়, নিবন্ধটির প্রস্তুতিতে লেখক নিজেই এআই প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছিলেন। সমালোচনার মুখে নিবন্ধটি নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দিয়েছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান ও সততা বিষয়ক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ক্যাথ এলিস গত মাসে পত্রিকাটিতে একটি মতামতধর্মী লেখা প্রকাশ করেন। সেটি ছিল শিক্ষাবিদ অয়েসগিটার-লবার্টের একটি নিবন্ধের প্রতিক্রিয়া।
অয়েসগিটার-লবার্ট তার লেখায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে শিক্ষার্থীরা সহজ পথ বেছে নিতে গিয়ে ক্রমশ এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এবং এতে শেখার প্রকৃত প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি এমনও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজের মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে দ্বিধায় আছেন, কারণ অনেক ক্ষেত্রে মূল্যায়ন যেন নির্ভর করছে কার এআই নির্দেশনা সবচেয়ে কার্যকর তার ওপর।
এর জবাবে এলিস শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে লিখেছিলেন, “শর্টকাট নেবেন না। নিজের চিন্তাভাবনা অন্যের কাছে আউটসোর্স করবেন না, যতই প্রলোভন থাকুক। যদি শিক্ষা ব্যবস্থা সত্যিই দুর্বল হয়, তাহলে প্রকৃত পরিশ্রমই আলাদা করে চোখে পড়বে।”
তবে পরবর্তীতে একটি এআই শনাক্তকারী সেবা নিবন্ধটি বিশ্লেষণ করে এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকার করে যে নিবন্ধটির প্রস্তুতিতে এআই ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, এলিস তার নিজস্ব প্রায় ৪০ হাজার শব্দের গবেষণা, নোট ও অন্যান্য উপকরণ একটি মাইক্রোসফট কপাইলটভিত্তিক বৃহৎ ভাষা মডেলে যুক্ত করেছিলেন। পরে সেই ব্যবস্থা তার দীর্ঘদিনের গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তথ্য সংক্ষিপ্ত করে একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরিতে সহায়তা করে।
মুখপাত্রের দাবি, এটি ছিল এলিসের নিজস্ব গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি খসড়া, যেখানে এআইকে কেবল সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিতে এ ব্যবহার গ্রহণযোগ্য। তবে প্রকাশিত নিবন্ধে এআই ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের মালিক প্রতিষ্ঠান নাইনের সম্পাদকীয় নীতিমালায় বলা হয়েছে, ধারণা তৈরি বা গবেষণার কাজে এআই ব্যবহার করা গেলেও প্রকাশিত লেখায় এআইয়ের ব্যবহার থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
পরে পত্রিকাটির সম্পাদক জর্ডান বেকার জানান, এলিসের নিবন্ধটি তাদের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এ কারণেই সেটি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।