দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যূনতম ৮ বিঘা জমি চিহ্নিত করে খেলার মাঠ সংস্কার, উন্নয়ন অথবা নতুন মাঠ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিশু-কিশোর ও তরুণদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন, উন্মুক্ত খেলার জায়গা কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত নগরায়ণের কারণে মাঠভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম ক্রমেই সীমিত হচ্ছে। এতে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, খেলাধুলার সার্বিক বিকাশে পর্যাপ্ত মাঠ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিজেই।
কমিটিতে স্থানীয় সরকার ও গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রীসহ ১২ জন সচিব রয়েছেন। তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ সারাদেশে মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার এবং নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত ৮ বিঘা জমি নির্ধারণের জন্য আধা-সরকারি পত্র দেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত জমিতে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি মাঠ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। এসব মাঠ সর্বসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
তবে নতুন মাঠ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব ইউনিয়নে বর্তমানে কোনো খেলার মাঠ নেই, সেখানে মাঠ তৈরির জন্য কৃষিজমি কোনোভাবেই বিপন্ন করা যাবে না।
কৃষিজমি অক্ষুণ্ন রেখে ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকা অথবা গ্রোথ সেন্টারের কাছাকাছি সরকারি খাসজমি থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ন্যূনতম ৮ বিঘা জমি চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, তৃণমূলের মাঠ উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে দেশের ৮টি বিভাগ এবং ফরিদপুর ও কুমিল্লাসহ মোট ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে।
প্রস্তাবিত স্পোর্টস ভিলেজগুলোতে ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি, শুটিং ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
শিশু-কিশোরদের মানসম্মত শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকার ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করেছে। একই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ ও আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠার সমন্বিত উদ্যোগ স্থানীয় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করার সুযোগও বাড়বে।