এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় নকলের ধরন বদলে এখন ডিজিটাল মাধ্যমে অনিয়ম বাড়ছে। স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি- এসব নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ (সংশোধিত ১৯৯২)-এ ডিজিটাল জালিয়াতি বা অনলাইনভিত্তিক প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রেই শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে। এ বাস্তবতায় আইনটি যুগোপযোগী করতে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও অবহিত করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আগেই সংশোধিত আইন কার্যকর হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আগে কাগজে লেখা নকল ছিল বেশি। এখন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল, প্রশ্ন ফাঁস ও অনলাইনভিত্তিক জালিয়াতি বেড়েছে। এসব ঠেকাতে শক্ত আইন ও কঠোর শাস্তির বিকল্প নেই।’ তিনি জানান, সংশোধিত আইনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের জন্য পৃথক ও কড়াকড়ি শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে।
পূর্বে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা-সংক্রান্ত ঘটনায় পাবলিক পরীক্ষা আইন, আইসিটি আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২০০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৪৫টির নিষ্পত্তি হয়েছে; সাজা হয়েছে কেবল একটিতে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, বর্তমান আইনের পরিধি অত্যন্ত সীমিত। নতুন অপরাধ যুক্ত হওয়ায় আইনের ব্যাপ্তি বাড়ানো জরুরি। তা না হলে অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার ঘটনাও বেড়েছে। সংশোধিত আইনে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।