Ridge Bangla

আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা

আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। পূর্ণাঙ্গ ৪০০ নম্বরের সিলেবাসে আগামী এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি (১৫-১৮ এপ্রিল) এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারই প্রথম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরাও একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে। তবে ফল প্রকাশ ও বৃত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোটা ও পৃথক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) এরই মধ্যে পরীক্ষার নতুন খসড়া কাঠামো প্রস্তুত করেছে। এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই এই পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

পাঁচ বিষয়ে ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করা রয়েছে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ৩০০ নম্বর এবং বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তবে একই প্রশ্নপত্রে সরকারি ও বেসরকারি- সব ধারার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও ফল প্রকাশ ও বৃত্তি বণ্টনে থাকবে আলাদা মোডালিটি।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল এবং সাড়ে ৪৯ হাজার শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকতে পারে।

দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সাল থেকে পুনরায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সে অনুযায়ী কেবল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে তা ‘বৈষম্যমূলক’ দাবি করে বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন–সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন।

শুনানি শেষে আদালত প্রথমে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং পরে রায়ে সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি, রেজিস্টার্ড কিন্ডারগার্টেন ও অনুমোদিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাটি ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

This post was viewed: 9

আরো পড়ুন