ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হওয়ার পরও সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়া, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা- সব মিলিয়ে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
জামায়াত আমিরের একান্ত সহকারী ডা. নজরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে ডা. শফিকুর রহমান তার নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই দিন সকাল ১১টায় তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ডা. নজরুল ইসলাম আরও জানান, সারাদেশে যেসব এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন, সেসব এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কেও খোঁজ নেন জামায়াত আমির। তিনি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি ঘরোয়া বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইইউ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার বিষয়েও একমত পোষণ করা হয়। ইইউ পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কাজ করবে।