Skip to main content

Ridge Bangla

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ড্রোন তাণ্ডবে নিভে গেল ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রাণ

সুদানের স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। হঠাৎ আকাশপথে শুরু হয় ড্রোন হামলা। মাত্র ১০ মিনিটের এই তাণ্ডবে প্রাণ হারান ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী এবং আহত হন আরও ৮ জন। মুহূর্তেই শান্তিরক্ষা ঘাঁটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ড্রোন থেকে নিক্ষিপ্ত বিস্ফোরকে ঘাঁটির ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হলেও অস্ত্রোপচারের পর তিনি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্য আহতদের হেলিকপ্টারে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে।

নিহত ছয় শান্তিরক্ষী হলেন কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা (নাটোর), সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শামীম রেজা (রাজবাড়ী), সৈনিক শান্ত মণ্ডল (কুড়িগ্রাম), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)। শহীদদের মরদেহ কবে দেশে ফিরবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দ্রুত মরদেহ ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন স্বজনরা।

এই হামলার জন্য সুদানের সেনাসমর্থিত সরকার আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে ‘ভয়াবহ হামলা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

নাটোরে কর্পোরাল মাসুদ রানার স্ত্রী বলেন, শেষবার কথা হয়েছিল শনিবারই। রাজবাড়ীতে শামীম রেজার বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাবা ডিউটিতে যাচ্ছি, দোয়া কইরো”- এই ছিল ছেলের শেষ কথা। গাইবান্ধায় সবুজ মিয়ার মা আহাজারি করে বলেন, “একটাই ছেলে ছিল, তাকেই মেরে ফেলল।” কুড়িগ্রামের শান্ত মণ্ডলের স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আর মমিনুল ইসলামের পরিবারে আছে দুই কন্যাসন্তান।

সুদানে চলমান সংঘাতের কারণে জাতিসংঘ মিশন দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবুও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা জীবন বাজি রেখে বিশ্বশান্তি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।

This post was viewed: 55

আরো পড়ুন